প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

দিলওয়ার খান

বিশেষ প্রতিনিধি, নেত্রকোনা

মুজিববর্ষে ঘর ও জমি পাচ্ছে নেত্রকোনার ৯৬০টি পরিবার

   
প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন কাটাতেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফজরবানু (৬৫)। থাকতেন সদর উপজেলার নূরপুর গ্রামের এক ব্যক্তির আশ্রয়ে। নিজের ঘর বা জমি বলতে কিছুই ছিল না তার। সেই দীনদরিদ্র ফজরবানু এখন আধাপাকা ঘর পাচ্ছেন। আরও পাচ্ছেন একখণ্ড জমি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গৃহীত ‘ভূমহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম’ এর আওতায় এ জমি ও ঘর পাচ্ছেন তিনি। খুশিতে আটকানা ফজরবানু সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাক্কা (পাকা) ঘরও থাকবাম, ঘুমাইয়াম এইডা স্বপ্নেও কুনুদিন ভাবজি না।’

শুধু ফজরবানুই নন, এমন ঘর ও জমি পাচ্ছেন জেলার মোট ৯শ ৬০ জন ভূমহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষ। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে দুই শতক করে খাসজমি। আর তাতে ঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার করে টাকা, যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আব্দুর রহমান জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এ জন্য ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেকটি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’

সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এরশাদুল আহমেদ বলেন, সদরের বড়গাড়া এলাকায় ২২ জন, রাজেন্দ্রপুরে ১৪ জন, লক্ষ্মীগঞ্জে চারজন ও ব্যক্তি-উদ্যোগে দান করা জায়গায় তিনজনকে ঘর ও জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের ভ‚মি উপসহকারী কর্মকর্তা এনামূল হক পলাশ বলেন, বাছাই করা পরিবারগুলো শুধু ভূমহীন বা গৃহহীন নয়, প্রত্যেকেই হতদরিদ্র শ্রেণির মানুষ। জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিবিড় যাচাইবাছাই করে এসব পরিবার বাছাই করা হয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলার ইউএনও এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, হাওড়া লের ওই উপজেলায় ৪শ ৪৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। হাওড়ের ঢেউয়ের ভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি বিবেচনা করে সুবিধাজনক স্থানে তাদের জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ঘর নির্মাণকাজ যাতে টেকসই ও সুন্দর হয় সেজন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

এদিকে ঘর ও জমি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছেন হতদরিদ্র পরিবারগুলোর সদস্যরা। সদর উপজেলার কাটলী গ্রামের ললিতা বেগম কাগজ কুড়িয়ে সংসার চালান। কমলপুরের আব্দুল কদ্দুছ সংসার চালান রিক্সা বেয়ে। তাদের নিজের জায়গা-জমি কিচ্ছু নেই। ললিতা একটি বস্তিতে আর আব্দুল কদ্দুছ অন্যের বাড়িতে থাকতেন। তারা দু’জনই সদর উপজেলার বড়গাড়ায় পুনর্বাসিত হচ্ছেন। ললিতা ও আব্দুল কদ্দুছ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘হেইন গরীবের দুঃখু বুঝুইন বইল্যাই আমরার মত দীন-দুঃখীদের কথা ভাবছুইন। আমরা তার লাইগ্যা পরান ভইরা দোয়া করি।’

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: