প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

মৃত্যু যেন থামছেই না, সংখ্যা বেড়ে ২৩৪৫

   
প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার দু’শ ৮৮ জনে ঠেকেছে এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার তিনশ ৪৫ জনে। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আজ শনিবার জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুনভাবে একশ ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেওয়া নতুনদের মধ্যে অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের। তাছাড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন আরও তিন লক্ষাধিক মানুষ।

বর্তমানে থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতসহ বেশকিছু দেশে অজ্ঞাত এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। তাছাড়া আতঙ্কে রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানও। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ভাইরাসের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই সম্প্রতি চীনে ভ্রমণ করেছেন কিংবা সেখানে বসবাস করেন। এমনকি সিঙ্গাপুরেও কয়েকজন বাংলাদেশির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা সকলেই বর্তমানে দেশটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গোটা বিশ্ব যখন মহামারি এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত, ঠিক তখনই চীনের ১৪ প্রদেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের দাবি করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো ল্যাবের গবেষকরা জানিয়েছেন, মাত্র তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তারা ভাইরাসটির পরীক্ষামূলক একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছেন। যা করোনার বিরুদ্ধে খুব ভালো কাজ করবে। ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস এখন বিষয়টি নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা চালাবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে কিছুদিন আগেই ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে মরণঘাতী ভাইরাসটির আকৃতি শনাক্ত করা হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় এবার করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করা হয়। এতেই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষামূলকভাবে এটি প্রথমে কোনা প্রাণীর ওপর, এরপরে মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে। প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: