মৃত ভাই জেগে উঠবেন এই আশায় অপেক্ষা করছিলেন বোন

   
প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, ৫ এপ্রিল ২০২০

দিন চারেক আগে মহাশ্বেতাদেবী ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকারের কাছে কিছু চাল-ডাল চান। কেয়ারটেকার সেই সামগ্রী কিনে নিয়ে মহাশ্বেতাদেবীর ফ্ল্যাটে দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি কটূ গন্ধ পান। এ নিয়ে ভারতের ভবানীপুরের রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া নামে একটি বাড়িতে বসবাসরত নারীর মহাশ্বেতাদেবীকে জিজ্ঞাসাও করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি এড়িয়ে যান ওই মহিলা। এর পর কেয়ারটেকার স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম বসুকে বিষয়টি জানান। তিনি বিষয়টি নজরে রাখতে বলেন। ওই কেয়ারটেকারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে গন্ধটা আরও বাড়তে থাকে। অসীমবাবুকে ফের ফোন করে বিষয়টি জানালে, তিনি কেয়ারটেকারকে তার কাছ থেকে এক মাসের মতো চাল-ডাল নিয়ে মহাশ্বেতাদেবীদের ফ্ল্যাটে দিয়ে আসতে বলেন।

সেই মতো শুক্রবার রাতে অসীমবাবুর কাছ থেকে চাল-ডাল নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যান কেয়ারটেকার। মহাশ্বেতাদেবী দরজা খুলতেই তীব্র পচা গন্ধ আসতে থাকে। কেয়ারটেকার তখন জানতে চান, কিসের গন্ধ? মহীশ্বেতাদেবী তখন দরজা বন্ধ করে দেন। এর পর কেয়ারটেকার প্রতিবেশীদের খবর দেন। সকলে মিলে এর পর জোর করে শান্তনুবাবুদের ফ্ল্যাটে ঢোকেন। দেখা যায়, পাশের ঘরে পড়ে রয়েছে একটি কঙ্কালসার দেহ। এর পর কেয়ারটেকার খবর দেন অসীমবাবুকে। তিনি ভবানীপুর থানায় যোগাযোগ করেন। রাতেই পুলিশ এসে ওই দেহ নিয়ে যায় এসএসকেএম হাসপাতালে। আপাতত সেখানকার মর্গেই রয়েছে তার দেহ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঠিকানায় আগে শান্তনুবাবুদের বাড়ি ছিল। পরে তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর সেই বাড়ি-জমি এক প্রোমোটারকে দিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই তৈরি হয় ফ্ল্যাট। চুক্তি মতো একটি ফ্ল্যাট তারাও পান। সেখানেই অবিবাহিত দুই ভাই-বোন থাকতেন। তারা খুব একটা কারও সঙ্গে মেলামেশা করতেন না। ঘর থেকে বাইরেও বেরোতেন কম। সম্প্রতি তারা আর্থিক কোনও অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মানসিক ভাবেও মহাশ্বেতাদেবী সুস্থ কি না দেখা হচ্ছে তা-ও। মৃতের বোন মহাশ্বেতা দে এখনও সেই ফ্ল্যাটেই আছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি শান্তনুর শেষকৃত্যের বিষয়টি নিয়েও তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: