প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোবাইল ফোন পাল্টে না দেওয়ায় দোকানির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ!

   
প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, ২৯ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল ফোন পাল্টে না দেওয়ায় দোকানিকে ‘শায়েস্তা করতে’ তার বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন এক নারী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় ওই নারী ধর্ষণের অভিযোগ করলেও পুলিশ তার সত্যতা পায়নি। পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করে ওই দোকানিকে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেই বেরিয়ে আসে ওই নারী মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে ওই নারী দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

তবে ভুক্তভোগী রাজধানীর মোতালেব প্লাজার ওই দোকানির দাবি, সাভারের নবীনগরে একটি দোকান কেনাকে কেন্দ্র করে তার এক বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলা চলছে। সে-ই পরিকল্পিত ভাবে ওই নারীকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মঙ্গলবার একটি স্ট্যাটাস দেন ডিএমপির রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) এস.এম. শামীম। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় হন্তদন্ত হয়ে একজন মহিলা এলেন শাহবাগ থানায়, বললেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে অফিসার ইনচার্জ আমাকে জানালে দ্রুত থানায় যাই। সঙ্গে সঙ্গে মহিলাকে সঙ্গে দিয়েই একটা টিম পাঠাই মোতালেব প্লাজায় ধর্ষককে ধরার জন্য, কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই ধর্ষককে। মহিলার অভিযোগ ছিল যে তিনি মোবাইল কিনতে মোতালেব প্লাজায় গিয়েছিলেন, উনি ব্লু কালারের মোবাইল চেয়েছিলেন কিন্তু দোকানদার তাকে গ্রিন কালারের মোবাইল দিয়েছেন’।

পুলিশ কর্মকর্তা আরো লেখেন, ‘রাস্তা থেকে মহিলা প্যাকেট খুলে বিরক্ত হয়ে দোকানদারকে ফোন করেন এটা পরিবর্তন করে ব্লু কালার দেওয়ার জন্য, তখন দোকানদার কৌশলে তাকে (মহিলাকে) তার বাসায় নিয়ে যান, মোবাইলের গুদামে নিয়ে যাচ্ছে বলে। সেখানে নিয়ে মোবাইল পরিবর্তন করার কথা বলে, ওখানেই নির্জন পরিবেশে জোর করে মহিলাকে ধর্ষণ করেন দোকানি।

একজন বিবাহিত মহিলা সাভার থেকে ঢাকায় মোবাইল কিনতে এসে হারালেন তার ইজ্জত। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। পরবর্তীতে কথা বললাম দোকানির (ধর্ষক) সঙ্গে এ বিষয়ে, মহিলার সঙ্গে কথোপকথনের মোবাইল রেকর্ডিং শুনলাম তার মোবাইল থেকে, মোতালেব প্লাজার সিসি ক্যামেরা চেক করলাম, মহিলা একটা হোটেলে বসেছিল সেই হোটেল কর্তৃপক্ষর সঙ্গে, দুঃখের বিষয় হচ্ছে সব শুনে এবং চেক করে মহিলার অভিযোগ মিথ্যা মনে হতে লাগল’। ‘মহিলার লোকেশন, টাইমিং, ফোনকল, রেকর্ডিং কোনো কিছুই মিলছে না। তখন মহিলাকে সবকিছু দেখিয়ে বললাম, আপা আপনি যেভাবে বলছেন সেভাবে তো মিলছে না কোনো কিছুই, আপনি নিজেই দেখেন। আর বললাম যে আমরা আপনার মেডিকেল টেস্ট করাব আসলেই আপনি ধর্ষিত কিনা’।

‘মুহূর্তের মধ্যে মহিলা বলল, স্যার আমাকে মাফ করে দেন, আমি মিথ্যা বলেছি, আমাকে কেউ কোনো প্রকার ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করেনি। বললাম তাহলে কেন মামলা দিতে এসেছেন, তখন উনি বললেন শখ করে ১৪,৫০০/ টাকা দিয়ে মোবাইল কিনেছি, সাভার থেকে কষ্ট করে এসেছি। আমাকে ব্লু কালারের কথা বলে গ্রিন কালার কেন দিলো, এতে আমার প্রচণ্ড রাগ হয়েছে। পরে উনাকে ফোন দিয়ে পরিবর্তনের কথা বললে দোকানি আমাকে এটাই ভালো মোবাইল বলে ফোন রেখে দিয়েছেন, তখন মেজাজ আরও খারাপ হয়েছে, কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা থানায় এসেছি মামলা দিতে, যেহেতু ধর্ষণের শাস্তি বেশি তাই মিথ্যা মিথ্যা গল্প বানিয়ে ধর্ষণের কথা বলেছি। দোকানির অপরাধ ব্লুর জায়গায় গ্রিন দেওয়া আর হয়ে গেলেন ধর্ষক। এ রকম সুযোগ দয়া করে কেউ নিয়ে মায়ের জাতির অপমান করার চেষ্টা করবেন না।’

এই স্ট্যাটাসটির বিষয়ে এস. এম. শামীম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারী নারী বুধবার বিকেলে ফোনে বলেন, ‘আমার সঙ্গে কোনো ঘটনা (ধর্ষণ) ঘটেনি। একটি মোবাইল ফোন এর কালার নিয়ে সমস্যা হয়। সে ফোনটি পরিবর্তন করে দিতে চায়নি। এ জন্য ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছিলাম। পরে আমিই বলেছি অভিযোগ সত্য না’।

তিনি বলেন, ‘তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না। মন মানসিকতা অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। আমি ওই ভাবে বুঝে উঠতে পারিনি। আমি চাচ্ছি না কারো ক্ষতি করি, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক বা আমার কোনো ক্ষতি হোক’।

জানতে চাইলে ওই দোকানি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত। পূর্বশত্রুতার জের দরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এমন করেছে। সাভারের নবীনগরে একটি দোকান কেনা নিয়ে আমার ঝামেলা চলছে। যার সঙ্গে ঝামেলা সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি’।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: