প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনজুরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে করোনায় আক্রান্ত ৩৪৩ স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

   
প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, ১৩ জুলাই ২০২০

ময়মনসিংহে গত তিন মাসে চিকিৎসক ও নার্সসহ ৩৪৩ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ২৯৪ জন। এত বিপুল সংখক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ও সিটি স্ক্যান পরীক্ষা। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন এবিএম মসিউল আলম।

তিনি বলেন, ৮০ চিকিৎসক, ১১৭ নার্স ও ১৪৬ স্বাস্থ্যকর্মীসহ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৩ স্বাস্থ্যকর্মী। এর মধ্যে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ চিত্তরঞ্জন দেবনাথসহ ৬৪ চিকিৎসক, ১১৬ নার্স ও ১১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৪ জন।

তিনি আরও বলেন, রবিবার (১২ জুলাই) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে জেলার ১৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। আক্রান্ত ১৬ জনের মধ্যে সদরের ৬ জন, ভালুকা ৩ জন, ত্রিশাল ২ জন, ধোবাউড়া, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, গফরগাঁওও হালুয়াঘাটে ১ জন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২২১৬ জন, মোট সুস্থ্য হয়েছেন ১৬৭৭ জন এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪ জন।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ জাকিউল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের আক্রান্ত ৮০ চিকিৎসকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন ৫৭ জন। সুস্থতার পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, ওয়ানস্টপ সার্ভিস ও জরুরী বিভাগের সেবাদানসহ রোগীদের রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

আন্তঃবিভাগের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা ও বহির্বিভাগের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বহির্বিভাগে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের সকল শাখা বন্ধ রেখে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের মাধ্যমে মূল চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। সুস্থ চিকিৎসদের ৩ ভাগ করে দুটি গ্রুপকে দিয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কাজ করানো হচ্ছে।

আরেকটি গ্রুপকে রাখা হচ্ছে স্টক হিসেবে। পালা করে এভাবে কাজ করার কারণে চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। এ রকম পরিস্থিতি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। করোনার আগে প্রতিদিন গড়ে যেখানে ২৪০০-২৬০০ রোগী ভর্তি থাকত, এই সংখ্যা কমে এখন এক হাজারে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় রোগীর সংখ্যা কমে গেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, তথ্য গোপন করে রোগীরা চিকিৎসা নেয়ার কারণসহ শুরুতে ব্যক্তিগত সুরক্ষার অভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের একটা বড় অংশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের সেবাদান। হাসপাতালের পরিস্থিতি সামাল দিতে মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষকদের দিয়ে চালানো হচ্ছে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ আবুল কাশেম বলেন, বর্তমানে ১০ চিকিৎসক কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩৪ চিকিৎসক, ১৫৮ নার্স ও ৩০১ স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯৩ জন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুস্থতার হার ৬০ শতাংশ-দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: