প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

যেমন শিক্ষা চাই অনলাইনে

   
প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, ১৫ মে ২০২০

ধরুন, এই করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বে যখন সব অচল তখন ১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে যেই তিন জন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে, আমি তাদের মধ্যে একজন। কেন আমি এই মহামারী পরিস্থিতিতেও অনলাইন শিক্ষার পক্ষে? এই প্রশ্নের বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা যেতে পারে। যেমন ধরুন, ভার্সিটি থেকে প্রদান করা আমার একটি ল্যাপটপ রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়। আমার বাবার সামর্থের বদৌলতে আমি একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারছি। যেই ফোনে প্রায় সকল এপ্লিকেশনে সহজে এক্সেস(প্রবেশ/ব্যবহার) করা সম্ভব। যেই মোবাইল ফোনের মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। শহরে বসবাস করার সুবাদে আমার বাসায় দ্রুতগামী ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যার বিল মাসে প্রায় ১২০০ টাকা প্রদান করতে হয়। যদি সেই সংযোগটির সমস্যা দেখা দেয় তবে আমার কাছে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। আমার মোবাইল ফোনের জন্যেও মাসে আমি প্রায় ৩০০ টাকার ইন্টারনেট সংযোগ সংরক্ষণ করে রাখি। যেন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে ইন্টারনেট বিচ্যুতি জনিত বিপদে না পড়তে হয়। এতোশত সুবিধা থাকার পরেও আমার ক্লাস করতে না চাওয়ার তেমন বিশেষ কোনো কারণই থাকার কথা নয়। তাই পাঠকদের যেন সময় নষ্ট না হয় সেই উদ্দেশ্যে প্রথমেই জানিয়ে রাখছি আমার এই লেখার ফয়সালা হচ্ছে আমি অনলাইন ক্লাস করতে চাই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে শুধু ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকার জন্য একটি মানুষ এতো সচেতন হতে পারে কিভাবে তাইতো? সেই প্রশ্নের উত্তরে যাবার আগে আরো বেশ কিছু বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ঐক্যমতে পৌঁছানো প্রয়োজন।

যেমন শিক্ষা কি? সক্রেটিসের ভাষায় “শিক্ষা হচ্ছে মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ।” অর্থাৎ ইহজাগতিক প্রেক্ষাপটের সকল ক্রিয়া সম্পাদনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান হচ্ছে শিক্ষা। আর এই জ্ঞান প্রয়োজন কোনো ব্যক্তির অন্তর্নিহিত গুণাবলি চিহ্নিত করার জন্য। আর সেই জ্ঞানের পূর্ণ বিকাশ লাভ করার জন্য গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন মতবাদ অথবা বিভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই শিক্ষার সংজ্ঞায়নের ভিন্নমত পাওয়া যেতে পারে। তবে আমরা সেই আলোচনায় না যেয়ে সাধারণ ভাবে উপলব্ধি করতে পারি যে, আমাদের অদক্ষতা মাপকাঠিতে মেপে তার সনদ প্রদান করাই শিক্ষা ব্যবস্থা অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ নয়। যদিও আমাদের বাংলাদেশসহ আরও নানা রাষ্ট্রে ঠিক এই কাজটিকেই করা হয়, পরিক্ষাপদ্ধতি এবং তার ফলাফলকে চূড়ান্ত গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে। যদিও পরিক্ষা গ্রহণ এবং তার ফলাফল প্রদান শুধু মাত্র শিক্ষার্থীর দূর্বলতা ও সবলতা উপলব্ধির একটি প্রক্রিয়া মাত্র। যা প্রকৃতপক্ষে তার অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বিকশিত করবার কোনো কাজেই আসে না। যেমন ধরুন, একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীর গুণাবলি বিকাশের জন্য, কোন মাটিতে চাষাবাদ ভালো হয় অথবা কোন মাটি দিয়ে বাড়ি তৈরি ভালো হয়, তা জানার প্রয়োজন নেই। আবার একজন সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীর জানার প্রয়োজনীয়তা নেই কিভাবে একটা সফটওয়ের তৈরি করতে হয় অথবা কিভাবে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয়। আর এই সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীর মাটি সম্পর্কে না জানা অথবা সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীর সফটওয়ার বা ওয়েবসাইট সম্পর্কে আগ্রহ না থাকার কারণে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হ্রাস পাওয়ার যেই ধারণা সেটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর আদিখ্যেতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। এই মতবাদটি যেমন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ঠিক একইভাবে আমরা যে বর্তমানে একটি প্রগতিশীল সমাজে বসবাস করছি সেটাও বাস্তবতা। যেই সমাজ প্রতি মূহুর্তে নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করছে এবং বিশ্বকে সকলের হাতের নাগালে এনে দিতে বাধ্য করছে।

ইনফ্রাসাউন্ড কিংবা কার্বন মনোক্সাইডের কারিশমাকে এখন আর এই সমাজের মানুষ ভূত হিসেবে বিবেচনা করেনা। যা একসময় শিক্ষার সংকটের কারণে মানুষের কাছে বাস্তব হিসেবেই বিবেচিত হতো। ধরুন ইনফ্রাসাউন্ড প্রক্রিয়ায়, আমরা যে শব্দ শুনতে পাই না তবে অন্যান্য ইন্দ্রিয় দারা উপলব্ধি করতে পারি এই জ্ঞানটি জানার জন্য অথবা গ্রহণের জন্য কিন্তু আমাকে বিজ্ঞান বিষয়ক কোণো সাবজেক্টে পড়েই গ্রহণ করতে হবে এমন নয়। এই ধরণের জ্ঞানকে সাধারণ জ্ঞানের মাত্রাতেই রাখা যেতে পারে। যে কেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই জ্ঞান আহরণ করতে পারে। আমাদের এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে কেউ যদি বলে ভূত দেখেছে তবে তাকে আমরা সাধারণ শিক্ষার মাপকাঠিতে মাপতেই পারি। অথবা এই শতাব্দীতে কেউ যদি দাবী করেন যে তিনি চাঁদ থেকে ঘুরে এসেছেন তবে সেই সত্যতাও যাচাই করা আমাদের কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। এর কারণ আমাদের হাতের মুঠোয় আছে ইন্টারনেট এবং তার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য মোবাইল ফোন।

আর সেই ইন্টারনেট বর্তমানে অন্যতম তথ্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। এখন কোনো তথ্য নিশ্চিত হতে আমাদের দিনের পর দিন ধরে বই খুঁজে বের করার প্রয়োজন পড়েনা। এমন একটা প্রজন্মে থেকে আমরা যদি ইন্টার্নেট এবং অন্যান্য টেকনোলজির যথাযথ ব্যবহার রপ্ত না করতে পারি অথবা প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা লালন করি তবে আমরা আমাদের বিদ্যমান সমাজকে অথবা রাষ্ট্রকে প্রগতির পথে না নিয়ে গিয়ে বরং পেছনের দিকে থেকে টেনে ধরার ভূমিকা পালন করছি। আর আমি আমার রাষ্ট্রকে প্রগতির এই লড়াইয়ে বিজয়ী বেশে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবো। তাই আমি ইন্টারনেট এবং সকল টেকনোলজির সাথে সংযুক্ত থাকার ব্যপারে অতিমাত্রায় সচেতন বলা চলে।

এমন অবস্থায় কোনো প্রজন্মের ১০ ভাগের তিন ভাগ জনবলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা এবং বাকি সাত ভাগকে অবহেলায় অথবা অর্ধসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলে একটি রাষ্ট্র কতটা সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে সেটিও বিবেচ্য। ধরুন দেশের ৭০ ভাগ কৃষক ৩০ ভাগ মানুষের খাদ্যের জোগান দিয়ে থাকেন। তবে খাদ্যের জোগান একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় মুখ্য বিষয় নয়। ধরে নেওয়া যাক এটি একটি গৌণ বিষয় মাত্র। বাকি যেই ৩০ ভাগ মানুষ আছেন, তারাই একটি রাষ্ট্র পরিচালনার সকল গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই ৭০ ভাগ কৃষকের তুলনায় ৩০ ভাগ গুরুদায়িত্ব পালনকারী মানুষগুলোই রাষ্ট্রের কাছে অধিক প্রয়োজনীয় হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে, ভেবে দেখুনতো সেই ৩০ ভাগ মানুষকে সকল সুবিধা দিতে গিয়ে রাষ্ট্র যদি সেই কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে না পারেন তবে খাদ্য ছাড়া এই ৩০ ভাগ মানুষের অস্তিত্ব কতদিন টিকে থাকতে পারে? একই কারণে ১০ জনের তিন জন শিক্ষার্থীর সুবিধা অনুযায়ী অনলাইন শিক্ষা দেশের পক্ষে কতটা লাভজনক হতে পারে তার উত্তর অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পায়।

পুরো বিশ্ব এখন কভিড-১৯ নামক এমন এক মহামারীর কবলে আক্রান্ত রয়েছে, যা প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। এই সমস্যার সমাধান কবে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। মানুষ অনির্দিষ্টকালীন আবদ্ধ অবস্থায় বিরাজ করছে যা আমাদের সকলের জানা। এই পরিস্থিতে শুধু শিক্ষা প্রদান করে দেশের জন্য আদর্শ উৎপাদনমুখী জনশক্তিই নয় বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য হলেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উপদেশ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যার ফলে আবদ্ধ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকার পাশাপাশি মনস্তাত্বিক বিকাশেরও প্রয়োজন বলে দাবী তাদের। এবং বিশেষজ্ঞদের এমন উপদেশের সাথে স্মভবত আমাদের দ্বিমত করার কোনো যায়গা নেই। তবে আমি মনে করি শুধু এই কারণেই নয় বরং শিক্ষাকে আরো সহজ এবং সর্বস্তরের মানুষের জন্য রূপান্তর করতে হলে অনলাইন শিক্ষা প্রক্রিয়ায় হতে খুলে দিতে পারে নতুন দ্বার। তাই অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলন এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকার কথা না বোধ করি।

বর্তমান সরকারের ঘোষণা মতে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের জনগন। ডিজিটাল বলতে এখানে ইন্টারনেট এবং টেকনোলজির সর্বচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমন একটা দেশে অবস্থান করা সত্বেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার গোঁড়ায় গলদ দেখা দিয়েছে। এটি আমার দাবি নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ধারাবাহিক ঘোষণাসমূহ থেকে উপলব্ধি মাত্র। চলতি বছরের মার্চ মাসে যখন দেশে লকডাউন দেওয়া হয় যার ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী শহর ছেড়ে উপশহর অথবা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বাভাবিক কাঠামো মেনে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্ব স্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইন ক্লাসের দিকে মননিবেশ করে। শুরুটা বেশ উত্তেজনার হলেও ধিরে ধিরে নানা সমস্যা সামনে আসতে থাকে। এই সমস্যাসমূহ বিবেচনায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তাদের ২৪ মার্চ দেওয়া বিবৃতি যেখানে উল্লেখ ছিল তারা সকল সমস্যার সমাধান করে অনলাইন ক্লাসের দিকে যাবে তা ব্যর্থ হয়। এবং ৬ এপ্রিল পুনরায়, এই মহামারী পরিস্থিতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা গ্রহণ অনৈতিক হবে বলে আরেকটি বিবৃতি প্রদান করে।

ঠিক এক মাসের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মনে করে তারা প্রস্তুত এবং আরেকটা নীতিমালা প্রকাশ করে। যেখানে ক্লাস-পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং ভর্তি প্রক্রিয়া জনিত তাদের ঘোষণা করা পূর্বের অনৈতিক কর্মকান্ড হঠাৎ নৈতিক হয়ে পড়ে। তবে পূর্বের সমস্যাগুলো যেন কুঁড়ে খেতে থাকে শিক্ষার্থীদের। যেমন দেশব্যাপী দুর্বল ইন্টারনেট ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ সম্পন্ন উপযুক্ত টেকনোলজির স্বল্পতা, ক্লাস পরিচালনায় টেকনোলজি ব্যবহারে অধিকাংশ শিক্ষকদের অপারগতা, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার বাস্তবতা না থাকা ইত্যাদি। তবে এগুলো বাদের আরেকটি প্রধান সমস্যা লক্ষ করা যায় তা হচ্ছে, আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের টাকাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা টাকা না দিলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব বলা চলে। যেহেতু সরকার শিক্ষার দায়িত্ব জনগণের নিজ নিজ উপরে চাপিয়ে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছেই হাত পাততে হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংকট তীব্র না হলেও দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে এই সংকট তীব্র ভাবে দেখা যায়।

একই সাথে কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে লকডাউন দেশের মানুষের স্বাভাবিক আয় এবং অনির্দিষ্টকালীন অপ্রত্যাশিত ব্যায়ের একটি তারতম্য সৃষ্টি করে। যার ফলে সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে অথবা আমরা ধরে নিতে পারি আমাদের পূর্বের উদাহরণ থেকে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবারের পক্ষে অথবা ১০ জনের সাত জন শিক্ষার্থীর পক্ষে তাদের পূর্ণ শিক্ষা খরচ প্রদান করা সম্ভব নয়। আমরা একটু অংক কোশে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে পারি। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে বাংলাদেশের মানুষের বছরে মাথা পিছু আয় প্রায় ১,৬২,৩০০ টাকা। অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার হয়ে থাকে ৪ মাসের। তাহলে ৪ মাসে একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষের আয় ৫৪,১০০ টাকা প্রায়। নূন্যতম সেমিস্টার ফি যদি ৩০ হাজার টাকাও ধরা হয়। তাহলে লেখার শুরুতেই আমি অনলাইন শিক্ষা পরিচালনার জন্য একটি আনুমানিক ব্যায়ের হিসেব দিয়েছিলাম। যেখানে এককালীন খরচ অথবা ডিভাইস খরচ হিসেবে প্রয়োজন ১৫ হাজার টাকা এবং ইন্টারনেট বাবদ খরচ প্রয়োজন ১৫শত টাকা প্রায়। চার মাসের ইন্টারনেট ব্যয় বাবদ খরচ দাঁড়ায় ৬ হাজার টাকা প্রায়। যদি ধরেও নেয়া হয় যে বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীর কাছে ইন্টার্নেটের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী ডিভাইস রয়েছে। তাহলেও এক সেমিস্টার অথবা ৪ মাসে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে একজন উপার্জনক্ষম মানুষের খরচ দাড়ায় ৩৬ হাজার টাকা প্রায়। যা একটি পরিবারের চার মাসের গড় আয়ের তিন ভাগের দুই ভাগ। এখন খুব সহজেই বলা যায় এই মহামারী পরিস্থিতিতে এই ব্যয় বহন করা একটা পরিবার পক্ষে শুধু অসম্ভবই নয় বরং আত্মহুতি দেয়ার সমান।

এর সমাধানও দেওয়া যেতে পারে। আমি ঢাকায় অবস্থিত একটি সুপরিচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এনে সামর্থ অনুযায়ী অর্থসংগ্রহ করছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে কভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অয়েভার অথবা ছাড় প্রদান করা হয়েছে। অন্য সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সামর্থ আছে কিনা আমার জানা নেই। অথবা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ও ঠিক কোন খাত থেকে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করছেন তার জবাবও দেওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব নেই বিধায় শিক্ষার্থীদের কাছে তার আর্থিক হিসাব প্রদানের দায়বদ্ধতাও থাকে না। তবে ধরে নেয়া যেতে পারে আমার বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ মেনে নিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তাদের আর্থিক অবস্থার সমাধান করতে পারে। যদি এই প্রক্রিয়ায় আর্থিক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় তবে আরও কিছু সমস্যা থেকেই যায়। তার মধ্যে ধরে নিলাম এই এক মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সকল শিক্ষককে অনলাইন ক্লাস বাবদ প্রশিক্ষণ প্রদান করে পটু করে ফেলা হয়েছে। এবং আরও ধরে নিলাম সকল শিক্ষার্থীর কাছে উন্নতমানের ডিভাইসও রয়েছে। তারপরেও দুটি সমস্যার সমাধান এখনো মেলেনি। তা হচ্ছে দ্রুত গতি সম্পন্য ইন্টারনেট, ইন্টারনেটের খরচ এবং বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার বাস্তবতা না থাকা।

কদিন আগে একটা সংবাদ পড়েছিলাম চিকিৎসকদেরকে ১ টাকায় ৩০ গিগাবাইট ইন্টারনেট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে একটি নেটওয়ার্ক অপারেটর। আমরা আবারও ধরে নিলাম এই পন্থায় শিক্ষার্থীদেরও ইন্টারনেট ব্যয় লাঘব করা সম্ভব। তারপরেও ক্লাসে যুক্ত থাকার জন্য দ্রুত গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট এবং বিজ্ঞানসহ অন্য সকল বিষয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার অবাস্তব পরিস্থিতি পরিষ্কার না করেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিভাবে ক্লাস পরিচালনার সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়। আর যদি এই সমস্যার সমাধান ছাড়া জোর করেই শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তবে আমাদের অবস্থাযে পুর্বের উদাহারনের মত রাষ্ট্রের সেই ৩০ ভাগ গুরুদায়িত্ব সম্পন্ন মানুষের মত হবে না তার নিশ্চয়তা কি রয়েছে? আমি রাষ্ট্রের প্রগতির পক্ষের মানুষ হিসেবে সমস্যা ঘারে নিয়ে কাজে প্রবেশের বিপক্ষে। তাই সময় যত বিলম্বিতই হোক না কেন, সকল সমস্যার সমাধান করেই আমি অনলাইন ক্লাস করতে চাই।

লেখকঃ রাকিন আবসার অর্নব

শিক্ষার্থী

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: