‘যে অভিযোগে শোভন-রাব্বানী বাদ, সেই অভিযোগে ভিসির অপসারণ নয় কেন’

   
প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও পদত্যাগ না করায় নিন্দা জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, ‘যে অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শোভন-রাব্বানীকে বাদ দেয়া হয়েছে একই অভিযোগে ভিসিকে কেন অপসারণ করা হচ্ছে না।’ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরে সংহতি সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম শুধু নিজের মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ করেননি তিনি অধ্যাপকের মর্যাদা ও এই পদকে কলঙ্কিত করেছেন। যে অভিযোগে শোভন -রাব্বানী পদ হারাল সেই অভিযোগে উপাচার্যকে কেন অপসারণ করা হল না? শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে ‘ঈদ সেলামি’ কাণ্ডেই দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ যখন হামলা করল তখন উপাচার্য কী করল? হামলা করা যদি ছাত্রলীগের দায় হয়ে থাকে তবে তিনি (উপাচার্য) কেন পদত্যাগ করলেন না?’ দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করা আন্দোলনকারীদের দায়িত্ব সরকারের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্নীতির প্রমাণ করতে হয় তবে সরকারের পুলিশ, গোয়েন্দা ও অন্যান্য সংস্থা কী করে? যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্নীতির প্রমাণ করতে হয় তবে ধরে নেব দেশে কোনো প্রশাসন নেই।’

সংহতি সমাবেশে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন দুঃখজনক পরিস্থিতির মধ্যে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল বন্ধ, ক্লাস বন্ধ, অনেকগুলো পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল সেগুলোও বন্ধ। শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি হল এর জন্য কে দায়ী? আমরা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সবাই জানি এর জন্য কারা দায়ী। এখানে মেগা প্রকল্প ঘিরে একটি দুর্নীতি হয়েছে- এটা অনেকটাই প্রমাণিত। আর এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর যে আন্দোলন শুরু করেছে তা সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জাবিতে যখনই অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তখনই আন্দোলন হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে। সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: