যে কারণে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করতেন মুন্না

   
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, ২২ নভেম্বর ২০২০

নারী ও পুরুষের সকলের মাঝে যৌন চাহিদা আছে। আর এই চাহিদা থেকেই মানুষের মাঝে বাকবিতণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে এমন কিছু যৌন চাহিদা ও ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে যা সকলের দৃষ্টি কোণে জঘন্যতম ও বিব্রতকর। মনোরোগ বিজ্ঞানিরা একে বিকৃতি যৌন চাহিদা বলে থাকেন। বর্তমান অনেক দেশে সমকাম একটি আইনসিদ্ধ যৌনক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত আছে। তবে মৃত ব্যক্তিকে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম ঘটনা মানুষের মনকে পশুত্বের চেয়েও নিচে নিয়ে গেছে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোমের কাজ করতেন মুন্না। বিশ বছর বয়সী মুন্না মর্গে কাজ করতে গিয়ে অল্পবয়সী মৃত নারীদের নিয়মিত ধর্ষণ করতেন। অবাক করা কাণ্ড, ডোমের কাজ করার পাশাপাশি মৃত নারীদের ধর্ষণ করাই যেন ছিল তার এক ধরনের নেশা। একে একে সাতজন মৃত নারীকে ধর্ষণ করেন তিনি। হাসপাতালে ফরেনসিক মেডিসিনের চিকিৎসকরাও তার এই জঘন্যতম ও বিব্রতকর কাজে অবাক হয়েছেন।

কোনো একটি জিনিস, মলমূত্র, গাছ, পশুপাখি ও মৃত মানুষকে দেখে যৌন উত্তেজনা ওঠাকে যৌন বিকৃতি বলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত এই ধরনের যৌন উত্তেজনা বা যৌনতাকে ‘সেক্সুয়াল ফেটিশিজম’ বলে। যৌন বিকৃতি কত প্রকার এটা সঠিকভাবে বলা মুশকিল, আবার অন্যদিকে ভারতের এক গবেষণায় ৫৪৯ রকমের যৌন বিকৃতির তালিকা পাওয়া গেছে।

মার্কিন মর্গে দায়িত্বে থাকা কেনেথ ডগলাস নামের এক ডোম শতাধিক মৃত নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। জীবিত নারীর তুলনায় মৃত নারীর সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক করতে বেশি ভাল লাগে। একদিন ১৯ বছর বয়সি একটি নারীকে যৌন সম্পর্ক করার পরে তার ডিএনএ পরীক্ষা করলে ডোম ডগলাসের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এই অপরাধে তার তিন বছর সাজা হয়। জেল থেকে বের হয়ে ফের ২০১২ সালে একই অপরাধ করেন ডগলাস।
মার্কিন মর্গে নয় এবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোমের দায়িত্বে থাকা মুন্না মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করেছেন।
এক মানসিক ব্যাধির নাম নেকরোফিলিয়া। থানাটোফিলিয়া বা নেকরোল্যাগ্নিয়া নামেও পরিচিত। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃতদেহের প্রতি প্রচন্ডভাবে যৌন আকর্ষণ অনুভব করে। নেকরোফিলিয়া রোগের ইতিহাস বেশ পুরোনো যদিও শব্দটি তত পুরোনো নয়। ইতিহাসের জনক হিরোডোটাসের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে মৃতদেহের সাথে যৌন সঙ্গমের উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন মিশরে সুন্দরী কিংবা প্রখ্যাত মহিলা মারা গেলে তাদের মমি করার পূর্বে তিন/চার দিন রেখে দেওয়া হতো যাতে উক্ত মৃতদেহ যৌন সঙ্গমের উদ্দেশ্যে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। তাছাড়া পেরুতে মনে করা হতো এর মাধ্যমে মৃতদেহের সাথে জীবিতের যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

নেকরোফিলিয়ায় আক্রান্ত রোগী যে শুধু মৃতের সাথে যৌন সহবাস করে তা নয় অনেক সময় সে সহবাসের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে হত্যা করে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় নেকরোফিলিয়ায় আক্রান্ত সবরোগীই পুরুষ যাদের বয়স ২০ বছর হতে ৫০ বছর পর্যন্ত।

ডা. জোনাথন রসম্যান ও ডা. ফিলিপ রেসনিক তিন প্রকারের নেকরোফিলিয়া রোগীর উল্লেখ করেছেন:

ক. নেকরোফিলিয়া হোমিসাইড: যারা ভিকটিমের মৃতদেহের সাথে সহবাসের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে হত্যা করে।

খ. রেগুলার নেকরোফিলিয়া: যারা যৌন আনন্দের জন্য মৃতদেহকে ব্যবহার করে।

গ. নেকরোফিলিক ফ্যান্টাসি: যারা মৃতদেহের সাথে কল্পনায় সহবাস করে যৌন আনন্দ লাভ করে কিন্তু বাস্তবে করে না।

নারীদের মরাদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুরুষ ডোম রয়েছে। এতে নারীদের দেহের প্রতি পুরুষ ডোম আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এজন্য নারী ডোমের জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল দাবি জানাচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা বলেন, মর্গে একটি ছেলে কাজ করতো। সে নাকি নারীদের মরাদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতো। তাকে গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। ছেলেটি স্বাভাবিক না, বিকৃত রুচির মানুষ। যদি সে শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত ডোম হতো তাহলে এই কাজ কখনই করতে পারত না।সূত্র: আরটিভি।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: