প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

যে ভাই-ভাবি খাওয়াতেন, সন্তানসহ তাঁদেরই খুন করেন রায়হান

   
প্রকাশিত: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ২২ অক্টোবর ২০২০

এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভাই ও ভাবিসহ তাদের দুই শিশুকে হত্যা করে রায়হানুল। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারে সংঘটিত চার খুন ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে দাবি করে সিআইডি কর্মকর্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। একই সাথে নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই গ্রেফতার রাহানুরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকালে সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রাহানুর একাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, ‘রায়হানুল নিজে তাঁর ভাই শাহিনুর, ভাবি সাবিনা খাতুন এবং তাদের দুই শিশু সন্তান মাহি ও তাসনিম সুলতানাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছেন। এর আগে তিনি বাজার থেকে ঘুমের ওষুধ ও এনার্জি ড্রিংক কিনে আনেন। গত ১৪ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে রায়হানুল দুই শিশু এবং ভাবিকে ওষুধ মেশানো পানীয় পান করান। পরে রাত দেড়টার দিকে তাঁর ভাই শাহিনুর মাছের ঘের থেকে বাড়ি এলে তাঁকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংক পান করান।’

ডিআইজি আরও বলেন, ‘রায়হানুল নিজে ঘরের ছাদের কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে ঘরে ঢুকে প্রথমে তার ভাই শাহিনুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেন। এরপর তাঁর হাতের রগ কেটে পায়ে রশি বেঁধে দেন। এর পরই তিনি পাশের কক্ষে ভাবি সাবিনাকে গলাকেটে হত্যা করেন। তাঁর চিৎকারে শিশুরা জেগে উঠলে তাদেরও একইভাবে গলাকেটে হত্যা করেন।’ রায়হানুল সিআইডিকে বলেছেন, তাঁর ওপর শয়তান ভর করেছিল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশু দুটিকে তিনি হত্যা করেছেন। খালি গায়ে হত্যার পর তিনি রক্তমাখা তোয়ালে ও চাপাতি মাছের ঘেরে ফেলে দেন বলেও জানান ডিআইজি।

কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে- এর জবাবে সিআইডি কর্মকর্তা জানান, ‘রায়হানুল একজন বেকার মানুষ। ৯-১০ মাস আগে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। সেই থেকে তিনি ভাইয়ের সংসারে খাওয়া-দাওয়া করতেন। নিজে কোনো কাজ করেন না এবং খরচও দেন না। এসব কারণে প্রায়ই ভাই-ভাবির সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। তাঁরা তাঁকে গালমন্দ করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভাবির সঙ্গে তাঁর একই বিষয়ে বাদানুবাদ হয়। ভাবি তাঁকে বকাবকি করেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাত দেড়টার দিকে রায়হানুল ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। এ সময় তাঁর ভাই শাহিনুর ঘের থেকে এসে তাঁকে বকাবকি করেন। তখন রায়হানুল বলেন, ‘তুমি মাথা ঠাণ্ডা করো। এবারের বিদ্যুৎ বিল আমি দিয়ে দেব।’ এই বলে তিনি তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংক খাওয়ান। পরে শাহিনুরও ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তিনি এক এক করে তাঁদের খুন করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার সময় রায়হানুলের সঙ্গে আর কেউ ছিল না। কেবল ভাই-ভাবির বকাবকির কারণেই তিনি হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন সিআইডিকে।’ রিমান্ডে থাকা রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: