প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

যৌ’নকর্মীদের মৃত্যু হলে লা’শ যা করা হয়

   
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দেশের সর্ববৃহৎ পতিতাপল্লী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায়। এখানকার নারীরা যুগ যুগ ধরে অন্তহীন কষ্ট, গ্লানি, দুঃখ ও যন্ত্রণা, সামাজিক অবহেলা এবং নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হয়ে অমানবিক জীবন যাপন করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়ার যৌ’নকর্মীদের নামাজে জানাজা হত না। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হলেও এতদিন জানাজা নামাজ ছাড়াই তাদের সৎকার হয়েছে। মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো কিংবা মাটিতে চাপা। সম্প্রতি জানাজা পেলেন দৌলতদিয়ার প্রবীণ যৌ’নকর্মী হামিদা বেগম। ৬৫ বছর বয়সী এই নারীর লা’শ ২ ফেব্রুয়ারি রাতে নামাজে জানাজার পর দাফন করা হয়।

সম্প্রতি বিডি২৪লাইভকে পতিতা কর্মী যুগ যুগ ধরে অন্তহীন কষ্টের কথা তুলে ধরেন। এই পতিতা বলেন, দিনে কোন পতিতা নারীর মৃত্যু হলে সারাদিন লা’শ রাখার পরে রাতে সেই লা’শ ভাসিয়ে দেয়া হতো। চুরি চামারি করে মানুষের অগোচরে লা’শ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো। আমরা আমাদের কাঁধে করে নিয়ে লা’শ ভাসিয়ে দিয়েছি। কোন পুরুষ মানুষ ছিল না।

‘যখন কোন যৌ’নকর্মী মৃত্যুবরণ করে তখন রাতে নৌকা ভাড়া করে নদীর মাঝখানে গিয়ে বালু ভর্তি কলসির সাথে রশি এক মাথা বেঁধে অপর মাথা লা’শের সাথে বেঁধে নদীর মাঝে ছেড়ে দেওয়া ততো।’ তিনি আরও বলেন, একটি শিশু বাচ্চা মারা গেলে তার লা’শ আশপাশের জমিতেই পুঁতে রাখার জন্য গিয়েছিলাম। তখন ওই জমির মালিক আমাদের দৌড়িয়েছে তখন আমরা লা’শ রেখেই পালিয়ে আসছি। সে বাচ্চা কিছুক্ষণ পরে নিয়ে আসা হলে রাতে নদীতে গিয়ে ফেলে দিয়ে আসছি। আপনি পর্যন্ত কতগুলি লা’শ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাজার হাজার লা’শ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি তা বলে প্রকাশ করা যাবে না।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: