প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হাবিবুর রহমান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

রাত পোহালেই কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভোট উৎসব

   
প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, ১৯ অক্টোবর ২০২০

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদে রাত পোহালেই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন নিয়ে দাউদকান্দির রাজনীতির মাঠে রয়েছে যথেষ্ট উত্তাপ-উত্তেজনা। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নিরাপত্তার চাদরে এখন গোটা উপজেলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে রবিবার রাত ১২টায়। এরপর থেকে ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রতিটি চায়ের দোকানে হাট বাজারে,পাড়া মহল্লায় চলছে ভোট আড্ডা।এ নির্বাচন ঘিরে উপজেলার প্রতিটি সড়ক,মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ছবি ও প্রতীকসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার। তবে ব্যতিক্রম দৃশ্যের দেখা মিলেছে গোটা উপজেলায়। আর তা হলো আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সুমনের নৌকা প্রতীকের কোন পোষ্টার, ব্যানার ফেষ্টুন কিছুই নেই।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়,নির্বাচনে ৩পদে ৮জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৪জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী (নৌকা) ও সাইফুল আলম ভূঁইয়া (ধানের শীষ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ এসডু (চশমা), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিল্লালুর রশিদ দোলন (টিয়া পাখি), উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মো.তারিকুল ইসলাম নয়ন (তালা), রুহুল আমিন (ধানের শীষ), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোজিনা আক্তার (প্রজাপতি) ও ফরিদা ইয়াসমিন ডলি (ধানের শীষ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পর চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী পোস্টার ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ঘোষণা দেন। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের কোনো পোস্টার দেখা যায়নি।

প্রচার-প্রচারণায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে।ধানের শীষ প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা তেমন দৃশ্যমান দেখা যায়নি।কারণ তৃণমূল নেতাকর্মীরা হামলা মামলার ভয়ে মাঠে নামেনি।এদিকে তরুণ প্রজম্ম ও সাধারণ ভোটাদের কাছে নৌকার প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীর আস্থা বেড়েছে।কারণ হিসেবে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে তিনি দাউদকান্দিবাসীর পাশে ছিলেন।ওই সময়ে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে মাঠে দেখা যায়নি।করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তার ভূমিকা ভূয়শী প্রশংসা অর্জন করেছে উপজেলাবাসীর কাছে।নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ের লক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনসহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। নৌকার প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মার্কা নৌকা ও জননেত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা, উন্নয়নের মার্কা নৌকা,স্বাধীনতার মার্কা নৌকা।গত পাঁচ বছর সুখে-দুখে জনগণের পাশে ছিলাম এবং করোনাকালীন সময়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে সেবক হিসেবে কাজ করেছি বলেই আজকে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে আমার গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। আর ভোটাদের নৌকার প্রতি আস্থা আছে। তাই আমার বিশ্বাস নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি পোস্টার লাগবে না।

বিএনপি’র প্রার্থী সাইফুল আলম ভূঁইয়া বলেন,অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে,ভোটাররা যদি ভোট দিতে পারে তাহলে ভোটাররা আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করবে ইনশাল্লাহ।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আশরাফুন নাহার জানান, ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ মোট ভোটার ২লাখ ৭৩হাজার ৫০১জন।এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৩৭হাজার ৫৫৩জন এবং মহিলা ভোটার ১লাখ ৩৫হাজার ৯৪৮জন। উপজেলা ও পৌরসভার ১০২টি কেন্দ্রের ৬৫৮টি বুথে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: