রাবিতে অনশনের ৩ দিন পার, অসুস্থ ৫১ শিক্ষার্থী

   
প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কামরুল হাসান অভি, রাবি প্রতিনিধি: বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে টানা ৩ দিন ধরে ‘আমরণ অনশন’ চালিয়ে চাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০ টা থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগ নামে নামকরণের দাবিতে আমরণ অনশন করে আসছেন তারা। এতে এ পযর্ন্ত প্রায় ৫১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অসুস্থদের রাবির মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ২মার্চ আলোচনা বসবেন তারা। তবে লিখিত আশ্বাস চেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেছেন তারা। তবুও লিখিত আশ্বাসের আশায় হালকা শীত আর মশার যন্ত্রণা নিয়ে খোলা আকাশের নীচে তাবু ও কাগজ বিছিয়ে বুক ভরা আশা নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন তারা।

এদিকে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী জাকারিয়া। এসময় অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অথরিটি হলেন উপাচার্য। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তোমাদের উচিত তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ফিরে যাওয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানায়, উপাচার্য ও সভাপতির লিখিত দেওয়া ছাড়া শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে কর্মসূচি স্থগিত করবেন না তারা।

এ সম্পর্কে ছাত্র উপদেষ্টা ড. লায়লা আরজুমান বানু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হচ্ছেন উপাচার্য স্যার।তাদের উচিত ছিল উপাচার্য স্যারের আহবানে সাড়া দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা। শিক্ষার্থী উপাচার্য স্যারের কাছে লিখিত চেয়েছেন। আমি মনে করি স্যারের কাছে লিখিত চাওয়াটা অশালীনতা। যেখানে উপাচার্য স্যার ঢাকা থেকে জরুরি মিটিং বাদ দিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে এসেছেন। তাদের অবশ্যই উচিত ছিল স্যারের উপর আস্থা রাখা।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, সিনেট ভবনে আগামী ২ মার্চ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসন এই সম্পর্কে আলোচনা সভা করবে। আপাতত শিক্ষার্থীদের উচিত ভিসি স্যারের উপর আস্থা রাখা। আমার মনে হয়, শিক্ষার্থীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তাদের উচিত আন্দোলন স্থগিত করা। এটা কোন স্বল্প সময়ের বিষয় না। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাদের ধৈর্য ধরা উচিত।

প্রসঙ্গত, পিএসসি’তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে আমরণ অনশনে বসছেন তারা।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: