প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

রাবিতে ‘অবৈধ’ নিয়োগের প্রতিবাদ: আন্দোলনরত শিক্ষকের প্ল্যাকার্ড ছিড়ে ফেলার অভিযোগ

   
প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, ২৬ জানুয়ারি ২০২০

কামরুল হাসান অভি, রাবি থেকে: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে অবৈধ দাবি করে নিয়োগবোর্ড বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ। এসময় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলাইমান চৌধুরীর হাত থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বাসভবনে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকার চলছিল। অভিযুক্ত দুই সহকারী প্রক্টর হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক রবিউল ইসলাম ও চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুনও সেখানে অসদাচরণ করেন বলে সোলাইমান চৌধুরী অভিযোগ করেন।

সোলাইমান চৌধুরীর অভিযোগ, ‘সকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দাঁড়ানোর কিছুক্ষণ পরে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রবিউল ইসলাম ও হুমায়ুন সাহেব এসে আমাকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকেন। তারা আমাকে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, এসময় তারা আমার হাত থেকে আন্দোলনের শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলেন এবং ড্রেনে ছুঁড়ে মারেন। তিনি আরও বলেন, ‘আব্দুলাহ মামুন একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসাবে আমার সাথে খারাপ আচরণ করার অধিকার রাখে না।’

সোলাইমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘অধ্যাপক রাবিউল ইসলামের স্ত্রী সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। স্ত্রীকে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ানোর জন্যই তিনি আমাকে প্রতিবাদ থেকে সরে যেতে হুমকি দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, আমি সোলাইমান চৌধুরীকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তাকে কোনও ধরণের হুমকি বা অসদাচরণ করিনি। একজন সহকারী প্রক্টর হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। স্ত্রীকে নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই বিষয়টি দেখবে। আমি এবিষয়ে কিছু বলতে পারি না।’

সহকারী প্রক্টর হুমায়ূন কবীর বলেন, একজন শিক্ষককে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স মেনে চলতে হবে। উপাচার্য বাসভবনের মত জায়গায় তিনি প্রক্টরিয়াল বডির অনুমতি ছাড়া আন্দোলন করতে পারেন না। আমি তার সাথে কোন খারাপ আচরণ করিনি। শুধু সেখান থেকে চলে যেতে বলছি।  এদিকে অসদাচরণ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল- মামুন।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ক্রপ সায়েন্স বিভাগের তিনটি পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৩৮টি দরখাস্ত জমা পড়ে। পরবর্তীতে বর্তমান প্রশাসন চলতি বছরের ৩০ জুলাই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করে এতে ৪৭টি দরখাস্ত জমা পড়ে। নতুন করে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলী আসগর। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ আগস্ট বিভাগটিতে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার বিবাদী রাবি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, কৃষি অনুষদের ডিন, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ ও প্ল্যানিং কমিটির সভাপতিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ১৫ জানুয়ারি শুনানি শেষে আদালত ২৭ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। রায় ঘোষণার আগের দিন সাক্ষাৎকার গ্রহণকে অবৈধ দাবি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: