রিফাত হত্যা মামলার রায়, পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক

   
প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের নির্মম বর্বরতা ও নির্মমতা মধ্যযুগীয় কায়দায়কেও হার মানিয়েছে। এসব আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে তাদের অনুসরণ করে অন্য যুবকেরাও ধ্বংসের পথে যাবে। তাই এসব আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

বুধবার বরগুনার মো. শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ (২৬) হত্যা মামলায় রায়ের পর্যবেক্ষণে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।

বিচারক রায় ঘোষণার সময় বলেন, আয়শা আক্তার মিন্নি ছয়জনের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে রিফাত শরীফের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। এ জন্য মিন্নি কলেজগেটের সামনে সময়ক্ষেপণ করে এবং রিফাতকে মারার উদ্দেশ্যে নেওয়ার জন্য সে স্বাভাবিক ছিল। এতেই প্রমাণিত হয়, মিন্নি হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), মো. রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।

মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সাইমুন (২১)। আসামিদের মধ্যে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। আর মো. মুসা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক।

এদিকে, রায়কে কেন্দ্র করে বরগুনা আদালত এলাকায় সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে। পাশাপাশি শহরজুড়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলার অন্যতম আসামি ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের মোটরসাইকেলে চড়ে আদালতে হাজির হন। এ সময় মিন্নি সাদা থ্রিপিস পরা ছিলেন। দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মিন্নির মুখে ছিল সাদা মাস্ক। তবে তাঁর বাবার মুখে মাস্ক ছিল না। বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে বরগুনা কারাগার থেকে বের করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আনা হয়।

এর আগে গত বছরের ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ওইদিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি পৃথক চার্জশিট দেয় পুলিশ।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: