প্রচ্ছদ / সৌদি আরব / বিস্তারিত

সাগর চৌধুরী

সৌদি আরব ব্যুরো

রিয়াদে বাংলাদেশ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

   
প্রকাশিত: ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশি জাতীয় কারিকুলাম অনুযায়ী পরিচালিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের কর্মসূচি হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলি বিদ্যালয় আঙ্গিনায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করে শহিদদের উদ্দেশ্যে মোনাজাতে অংশ নেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সন্ধ্যায় বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদের সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার বিতরণী সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মোঃ মেহেদী হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, এসিস্ট্যান্ট ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার গোফরান, কালচারাল ডাইরেক্টর সফিকুল সিরাজুল হক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রিয়াদ প্রাদেশিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম, সহ-সভাপতি ও বিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শামীম আবেদীন, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (আওয়ামীলীগ) সভাপতি ও ন্যানো বিজ্ঞানী ড. রেজাউল করিম, সহ-সভাপতি আবদুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী পরিষদ সভাপতি এমআর মাহবুব ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রিয়াদ মহানগর কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এটিএম জিয়াউদ্দিন, রিয়াদ যুবলীগ এর সভাপতি জলিল রাজাসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ আবদুল হাকিম কোরান থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।দিবসটি উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফা কবির, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীরব সিকদার ও মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাত লুবাবা।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ আফজাল হোসেন দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছুটির দিনেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা প্রদর্শনের জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও বিদ্যালয়ে স্বাগত জানান।

প্রধান অতিথি মেহেদী হাসান তার বক্তব্যে মাতৃভাষার তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং আমাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা আত্মোৎসর্গ করেছিলো তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি আগামীদিনের জাতির কর্ণধার হিসেবে শিক্ষার্থীদের মহান বীর শহীদদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার তাগিদ দেন। তিনি বলেন জাতির পিতা বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের অনুকরণীয় এক আদর্শ। তাঁর যোগ্য কন্যা চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এগিয়ে চলছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে।

ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সভাপতি ও কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ন্যানো বিজ্ঞানী ড. রেজাউল করিম বলেন, ভাষা আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে আমাদের বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অগ্রসরমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন দক্ষ নাবিকের মতো যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অচিরেই আমরা বিশ্বের একটি রোড মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ লাভ করবো।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রিয়াদ প্রাদেশিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুসসালাম বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে আজ অনুকরণীয় একটি রাষ্ট্রের নাম। জাতির পিতার যোগ্যতম কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে যে উন্নয়নের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে, তাতে আমরা উন্নত বিশ্বের কাতারে উপনীত হতে সক্ষম হব।

এম.আর মাহবুব তার বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন এবং ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আগামী প্রজন্মকে বেড়ে ওঠার পরামর্শ দেন।

এটিএম জিয়াউদ্দিন শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতির পিতার আদর্শ চর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান। কৃষিবিদ শামীম আবেদীন বলেন, ৫২ ভাষা আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মোস্তাক আহম্মদ বলেন, আমরা গর্বিত জাতি। আমাদের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বব্যাপি স্মরণ করা হচ্ছে। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার অসামান্য অবদানের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা, মানবতাবাদী নেত্রী দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিষ্ঠানের ত্রাণকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠান সমস্যা উত্তরণ করে এখনো জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য আদর্শ নাগরিক সৃষ্টিতে কাজ করে যেতে পারছে বলে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবী করেন প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশ জাতীয় কারিকুলাম অনুসৃত এই প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ভূমিতে স্থানান্তরিত হলে রেমিটেন্স যোদ্ধার সন্তানদের কর্মোক্ষম আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন মানবতাবাদী নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেই বিদ্যালয়ের নিজস্ব ঠিকানা করে দেওয়া সম্ভব। প্রবাসে আসন্ন মুজিব বর্ষের সকল কার্যক্রম আমাদের ক্যাম্পাস থেকেই সফলভাবেই পালিত হবে বলে দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, বাঙালি জাতি অহংকারের নাম, বাংলা এক গৌরবান্বিত ভাষা। এই ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দিতে বীর বাঙালি ৫২ সালে রক্ত দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হয়নি। আমরা সে বীরের জাতি। আমাদের সে আত্মদান বৃথা যায়নি। আজ বিশ্বের সকল মাতৃভাষা তার মর্যাদা ফিরে পেয়েছে, আর এই দিনটি পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি সগৌরবে উদযাপিত হচ্ছে। বাঙালি জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য এক মহিমান্বিত অর্জন।এ অর্জনের জন্য তিনি দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মুহাম্মদ আবদুল হাকিম তার বক্তৃতায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। ইঞ্জিনিয়ার গোফরান বলেন, বাঙালি এক বীরের জাতি। তারা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানে না। বাঙালি জাতির ইতিহাস বীরত্ব গাঁথায় পরিপূর্ণ। ভাষা আন্দেলনের পথ ধরে আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জন। সেই মহান স্বাধীনতার রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে যে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রেখেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সফিকুল সিরাজুল হক বলেন, মাতৃভাষা ভাব বিনিময়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দেলনে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন তিনি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: