রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র চান মাহাথির

   
প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ, ২৮ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে সংকটের সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তাছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনে আলাদা স্বাধীন ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন মাহাথির। তুরস্ক সফররত মাহাথির দেশটির সংস্থা আনাদোলুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের কয়েকটি সীমানাচৌকিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ব্যাপকভাবে হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনী ওই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে।

নৃশংতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা ‍মুসলমান পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, যারা বিভিন্ন সময় নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসে। এছাড়াও মালিয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডেও বেশ কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া মিয়ানমার প্রশাসনের উপর আন্তর্জাতিক চাপপ্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ রাখাইন রাজ্যে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও বিতাড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আদালত কেবল তখনই কাজ করতে পারে যখন কোনো বিষয়ে বিবাদমান পক্ষ আদালতের অনুসন্ধানগুলি মেনে নিতে রাজি হয়। আইসিজে যদি একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সে সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করবে না। সুতরাং, আইসিজের পদ্ধতিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমাদের মিয়ানমার সরকারের বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকট, চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুসলিম বিশ্বের এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ রাখাইন রাজ্যে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া মিয়ানমার প্রশাসনের উপর আন্তর্জাতিক চাপপ্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

১৯৯৭ সালে ১৭ জুলাই রোম সংবিধি গৃহিত হওয়ার পর ১২০টি দেশের স্বীকৃতি নিয়ে ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু করে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো ঘটনায় দোষীদের অভিযুক্ত করে থাকে এই আদালত। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র হলেও মিয়ানমার এর সদস্য নয়।

তবে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সদস্য রাষ্ট্র না হলেও রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ঘটনার বিচারে কোনো সমস্যা হবে না।

আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে সাক্ষাত্কারে রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকট, চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুসলিম বিশ্বের এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

এইচএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: