‘লকডাউন’ হলেও বন্ধ হবে না ব্যাংক

   
প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, ২৩ মার্চ ২০২০

দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও ব্যাংকের কোনো শাখা বন্ধ করা যাবে না। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নগদ অর্থের লেনদেন করতে পারে সেই জন্য যেকোনো অবস্থায়ই ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখতে হবে। রোববার (২২ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মাদারীপুরের শিবচর ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো এলাকা লকডাউন হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নগদ অর্থের লেনদেন করতে পারে সেই জন্য যেকোনো অবস্থায়ই ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখতে হবে। লকডাউন হলেও শাখা বন্ধ করা যাবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সব ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ অথবা অফিসিয়াল কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের ১৪ দিনের ছুটি দেওয়া হবে। এমনকি যাদের পরিবারে কোনো সদস্য বিদেশ থেকে এসেছে তাদের ক্ষেত্রেও ১৪ দিন বাধ্যতামূলক ছুটি নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, খুব শিগগির বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি বিভাগের সামনে থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই বেশিরভাগ বিভাগের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আজকের বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের কয়েকটি শাখা বন্ধ রেখে অন্যান্য শাখাগুলো বন্ধ ঘোষণার অনুরোধ করেছিল একটি ব্যাংক। কিন্তু সেটা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ সংকটের সময়গুলোতে মানুষের টাকার প্রয়োজন বেশি হয়। সতর্কতা অবলম্বন করে সবাই ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে ও জমা দিতে পারবেন।

এছাড়া প্রত্যেকটি ব্যাংককে তাদের বোর্ড মিটিংগুলো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে ১০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী সব ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একই স্থান থেকে সেই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। আর যেসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ জনের কম তারা বড় কক্ষে দুই মিটার দূরত্ব বজায় রেখে প্রশিক্ষণ শেষ করবে।

সূত্র জানায়, প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী বন্ডগুলো ক্যাশ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতে সময় হিসাব করে মুনাফা পরিশোধ করা হবে। যদিও অধিকাংশ ব্যাংকের তারল্যে কোনো সমস্য নেই। তারপরও যাদের সমস্যা হবে তারা বন্ডের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে। খুব শিগিগির এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: