লাইভ ক্লাস নয়, ভিডিও রেকর্ড ক্লাস চায় রাবি শিক্ষার্থীরা

   
প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, ১৭ জুলাই ২০২০

কামরুল হাসান অভি, রাবি থেকে: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ৯ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে অনলাইনে ক্লাস। তবে, ক্লাস নেওয়ার এই ব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতার। শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন সমস্যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা ভালো নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকা, সবার কাছে স্মার্টফোন না থাকা, উচ্চদামে ইন্টারনেট ডাটাপ্যাক কেনার অক্ষমতাসহ নানাবিধ সমস্যার কথা বলে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ এ ব্যবস্থার ফলে শুধু যাদের সামর্থ আছে তারাই ক্লাসে যোগ দিতে পারে আর যাদের সামর্থ নেই তারা শিকার হয় বৈষম্যের। তবে, শিক্ষার্থীরা বলছেন স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা ও লাইভ ক্লাস না করে ভিডিও রেকর্ড করে ক্লাসগুলো নিশ্চত করা গেলে সফলতা আসতে পারে এই ব্যবস্থার।

এ বিষয়ে সমাজকর্মের শিক্ষার্থী দীদরুল ইসলাম বলেন, একটি লাইভ ক্লাস করতে প্রায় ১ জিবির মত ডাটার দরকার হয় তার উপর আবার মেগাবাইটের চড়া দাম। নেটওয়ার্কের সমস্যা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে করোনার এই সংকটকালে আমাদেরকে ভীষণ চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবে যদি কর্তৃপক্ষ স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা এবং স্যাররা যদি লাইভ ক্লাস না করে ক্লাসগুলোর ভিডিও রেকর্ড করে দেয় তাহলে শতভাগ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টে গত একমাস যাবৎ অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। এটাকে কোনোভাবে ক্লাস বলা যাবে না, বলা যায় জাস্ট ছাত্র শিক্ষক মতবিনিময় বা ইন্টারেকশন বলতে পারেন। প্রায় ৬০% শিক্ষার্থী ক্লাসই করতে পারছে না, আমি ক্লাস প্রতিনিধি(সিআর) হিসেবে আমার মনে হয়েছে, কারো এলাকায় একেবারেই নেটওয়ার্ক থাকে না, কারো মাঝেমধ্যে থাকে, যেটা দিয়ে লাইভ ক্লাস করা সম্ভব না।

আবার কয়েকজনের স্মার্ট ফোনই নাই৷ তবে মেক্সিমাম ছাত্রছাত্রীর যেটা অভিযোগ সেটা হলো এমন দাম দিয়ে ইন্টারনেট কেনে ক্লাস করা সম্ভব নয়। আমি যদি জুম এপস এর কথা বলি তাহলে এক ঘণ্টা ক্লাস এ প্রায় ৫০০ এমবি এর মত খরচ হয়, তাই দিনে যদি ৩ টা ক্লাস করা হয় তাহলে ১.৫ জিবির মত খরচ, যেটার অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয় । তবে স্যাররা যদি ভিডিও রেকর্ড করে রাখে, যেটা পরে ছাত্রদের দিয়ে দিলে তারা পরে সুযোগ বুঝে দেখে নিবে, এটা করলেও একটু ভালো হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে শিগগিরই সুখবর আসছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। মন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের টেলিকম কোম্পানিগুলোকে সর্বনিম্ন হারে ইন্টারনেট দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে অপারেটরদেরকে তাদের বিটিএসগুলোকে ৪জি করারও নির্দেশ দিয়েছি।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে কীভাবে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া যায় সেবিষয়ে প্রস্তাব করেছেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: