প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

লুকিয়ে থেকে জামিন চাইলেন ওসি মোয়াজ্জেম

   
প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, ২৯ মে ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিতর্কিত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। গত সোমবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

ওসির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা বুধবার (২৯ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকেই লাপাত্তা মোয়াজ্জেম, পরিবার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কেউই তার কোনও খোঁজ জানে না।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার (২৬ মে) সাইবার আদালতে এ সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা।

গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ব্যারিস্টার সুমনের মামলাটি প্রথমে অভিযোগ আকারে ছিল। পরে পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, যৌন হয়রানির অভিযোগ বিষয়ে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি রেকর্ড করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন ফেনীর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মারা যান।

পরিকল্পিতভাবে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত ২১ জন কারাগারে রয়েছেন। হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন মূল আসামিরা। যেখানে ওঠে আসে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশনায় হত্যাকাণ্ডের পেছনে সংশ্লিষ্টদের নাম। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া ও মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: