প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

সুমিত সরকার সুমন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার বসছে পদ্মা সেতুর ৩৫ তম স্প্যান

   
প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, ৩০ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

অনুকূল আবহাওয়া আর কারিগরি জটিলতা দেখা না দিলে পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান বসছে আগামীকাল শনিবার। এই স্প্যানটি বসানো হবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর। সফলভাবে এই স্প্যান টু-বি বসানো হলে দৃশ্যমান হবে সেতুর পাঁচ হাজার ২৫০ মিটার। আজ শুক্রবার বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এ দিকে, আজ স্প্যান বসানোর শিডিউল নির্ধারিত থাকলেও নির্ধারিত পিলারের কাছে নাব্যতা সংকটের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। একদিন সময় নিয়ে ড্রেজিং করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কয়েকদিন আগে যেখানে ১৩০ ফুট পানির গভীরতা ছিল, সেখানে গতকাল ছিল সাত ফুট। এমন পরিস্থিতিতে স্প্যান বসানোর তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

৩৫ তম স্প্যান বসানো হলে বাকি থাকবে ছয়টি স্প্যান। ৩৪ তম স্প্যান বসানোর সাত দিনের মাথায় বসতে যাচ্ছে এটি। চলতি মাসে তিনটি স্প্যান বসানো হয়েছে, আর এটি নিয়ে সংখ্যা দাঁড়াবে চারটি। তবে প্রাকৃতিক কারণ বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে একদিন বেশি সময়ও লাগতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতু এক প্রকৌশলী জানান, সেতুর ৩৫ তম স্প্যান টু-বি সেতুর ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর স্থাপন হবে। এর জন্য মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে শনিবার সকাল ৯টায় স্প্যানটিকে বহন করে নিয়ে যাবে ভাসমান ক্রেনটি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আর কোন সমস্যা দেখা না দিলে আগামীকাল দুপুর ২টার মধ্যে স্প্যান বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, সেতুর ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের অবস্থান লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীতে। মূল নদীতে স্প্যান বসানোর কাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় অবস্থিত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রঙয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি বহন করে নিয়ে যাবে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। ক্রেনটির প্রায় ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগতে পারে নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছাতে। স্প্যান রওয়ানা দেওয়ার আগে নদীতে অনুকূল পরিস্থিতি আছে কিনা তা দেখা হবে। যেসব স্প্যান বসানো বাকি এগুলোর অবস্থান মাওয়া প্রান্তে।

জানা যায়, দুই পিলারের সামনে নোঙর করবে স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি। এরপর পজিশনিং করে স্প্যানটিকে তোলা হবে পিলারের উচ্চতায়। রাখা হবে দুই পিলারের বিয়ারিং এর উপর। এরপর পাশের ৭ ও ৮ নম্বর পিলারে এর আগে স্থাপন করা স্প্যানের সঙ্গে ঝালাই করে দেওয়া হবে এই স্প্যানটি। সেটি করতে কয়েকদিন সময় লাগবে। আর, এই স্প্যান বসানোর সময় ওই পথ দিয়ে নৌযান চলাচলে অন্য রুট চলার নির্দেশনা থাকবে।

স্প্যান বসানোর শিডিউল সম্পর্কে প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, আগামী ৪ নভেম্বর পিলার ২ ও ৩ নম্বরে ৩৬তম স্প্যান ‘১-বি’, ১১ নভেম্বর পিলার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান ‘২-সি’, ১৬ নভেম্বর পিলার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান ‘১-এ’, ২৩ নভেম্বর পিলার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান ‘২-ডি’, ২ ডিসেম্বর পিলার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান ‘২-ই’ ও ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান ‘২-এফ’ বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর।

পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হবে ৪১টি স্প্যান। ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: