প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সুমিত সরকার সুমন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

শরৎকালে পুজা হয় বলে শারদীয়া নামে ও মাকে অভিহিত করা হয়ে থাকে

   
প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, ২২ অক্টোবর ২০২০

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ কথাতেই আছে কিন্তু দুর্গা পূজা খুব স্বাড়ম্বরেই পালিত হয়ে থাকে প্রতি বছর। শরৎকালে পুজা হয় বলে শারদীয়া নামে ও মাকে অভিহিত করা হয়ে থাকে। দেবী হিমালয় কন্যা পার্বতী শিবের অর্ধাঙ্গিনী। পুরাকালে দুর্গম নামে এক অসুরকে বধ করায় শিব দেবীর নামকরন করেন দুর্গা। মহিষাসুর নামক এক অসুর দেবতাগণকে পরাজিত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে তাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। তখন দেবতাদের এবং ত্রিদেবের মিলিত শক্তিপুঞ্জ থেকে সেই দেবীর প্রকাশ ঘটে একমাত্র যিনি মহিষাসুরকে বধ করতে পারেন। কারন মহিষাসুর কোন দেব দ্বারা পরাজিত হবে না। তখন দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে দেবতাদের স্বর্গ ফিরিয়ে দেন।

পুরাকালে কালকেতু নামে এক ব্যাধ চন্ডীরুপে বসন্তকালে দেবীর পূজা করেন যা বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত। কিন্তু শ্রী রাম তার সহধর্মিণী সীতাদেবীকে রাবণের কাছ থেকে উদ্ধার এবং যুদ্ধে বিজয় লাভের জন্য দেবীর পূজা করেন। অসময়ে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে অকাল বোধন ও বলা হয়ে থাকে। যদিও আরো একটি তথ্য থেকে জানা যায় পুরাকালে রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ্য নামক এক ব্যক্তি নিকট আত্মীয়দের দ্বারা লাঞ্ছিত ও সর্বহারা হয়ে মেধা নামক এক ঋষির আশ্রমে আশ্রয় পান। মনোবল বৃদ্ধির জন্য ঋষি তাদের তপস্যা করতে বলেন। তিন বছর তপস্যার পর রাজা সুরথ তার রাজ্য পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্য তার স্ত্রী পুত্রদের কল্যাণের জন্য শরৎ কালে দেবীর পূজা অর্চনা করেছিলেন। কৃপায় তারা হারানো সব ফিরে পান। ধারণা করা হয় তখন থেকেই দেবীর পূজা শরৎকালে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেবী ত্রিনয়নীবলে ওনাকে ত্র‍্যম্বক ও বলা হয়ে থাকে। দেবীর বাম নয়ন-বাসনা বা চন্দ্র, ডান নয়ন-কর্ম বা সুর্য, কেন্দ্রীয় নয়ন-জ্ঞান বা অগ্নি স্বরূপ। তার দশ হাতের দশটি অস্ত্র ও ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক বহন করে। দেবী পুজোর মুল লক্ষ্য হচ্ছে শক্তির বন্দনা করা। সর্ব বিদ্যা সর্ব শক্তি দেবীর মাঝেই নিহিত। এ বছর দেবী দোলায় আগমন করছেন ধরণীতে। পঞ্চমী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন দিয়ে শুরু হয় মাতৃ পূজার।

বৃহস্পতিবার শ্রী শ্রীদুর্গা ষষ্ঠী। সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। শুক্রবার সপ্তমী। সপ্তমীপূজায় দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন এবং সপ্তমী বিহিত পূজা। শনিবার মহাঅষ্টমী, রবিবার মহানবমী এবং সোমবার বিজয়াদশমী। দশমীর পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। দেবী এবার গজ বা হাতিতে গমন। যার ফলে এবার ধরণী হবে শস্যপূর্ণা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমর ঘোষ বলেন, এ বারের পূজা স্বাস্থ্যবিধি ও সম্পূর্ণ নিয়মকানুন মেনে উদযাপিত হবে। সম্পূর্ণ আগের নিয়মেই পূজা করা হবে। এবার শুধু একটু ব্যতিক্রম হবে, প্রত্যেক পূজা মন্ডপে যে আলোকসজ্জা করা হতো তা এবার হবে না। কোন ধরনের গেট তৈরী করা হবে না। তিনি বলেন প্রতি বার আরতি প্রতিযোগীতা করা হতো এবার মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে তা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। এবার জেলায় ৩০৫ টি মন্ডপে পূজা উদযাপিত হবে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৭টি,সিরাজদিখান উপজেলায় ১০৪টি, শ্রীনগর উপজেলায় ৭৪টি টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় ৩২টি, লৌহজং উপজেলায় ৪০টি ও গজারিয়া উপজেলায় ১০টি পুজা মন্ডপে পুজা উদযাপিত হবে যা গত বছরের তুলনায় ২টি বেশী।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: