শিশুদের অতিরিক্ত টিভি দেখাতে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি

   
প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অতিরিক্ত টিভি দেখা যেমন সময় নষ্ট তেমনি স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ঝুঁকিতে শিশুরাই আছে সবচেয়ে বেশি। যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রে সময় খুব মূল্যবান বিষয়। আর শিশুর জন্য বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মব্যস্ততার চাপে বেশির ভাগ বাবা-মায়েরই সন্তানকে তেমন সময় দিতে পারেন না। একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যাও এখন হাতে গোনা। ফলে শিশুকে সময় দেয়ার মতো মানুষের অভাব। তাই শিশুর খেলাধুলার তেমন সুযোগ থাকে না। কারণ তাকে মাঠে বা পার্কে নিয়ে যাবার কেউ নেই। ফলে বদ্ধ ঘরে স্মার্টফোন, টিভি, কম্পিউটারের সঙ্গেই কাটে এখনকার বেশির ভাগ শিশুর শৈশব। তাই বর্তমানে স্মার্টফোন, টিভি আর কম্পিউটারের সঙ্গে সময় কাটাতেই বাচ্চারা বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শিশুদের টিভি দেখা থেকে বিরত রাখা অনেকটা অসম্ভব। আজকাল এমন অবস্থা হয়েছে যে, টিভি দেখতে না দিলে অনেক শিশু কান্না জুড়ে দেয়, আর টিভি চালু করলেই শিশু শান্ত। অনেক মায়েরা টিভি দেখতে দেখতে শিশুকে খাওয়ানোর অভ্যাস করেন। এই অতিরিক্ত টিভি দেখা একপর্যায়ে আসক্তিতে পরিণত হতে পারে যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত টিভি দেখা শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর এ বিষয়ে কথা বলেছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. তৌসিফ আহমেদ।

১. অতিরিক্ত টেলিভিশন শিশুকে আত্মকেন্দ্রিক, অসহনশীল ও অসামাজিক করে।

২. শিশুর বুদ্ধির বিকাশে বাধা দিয়ে সৃষ্টিশীলতা নষ্ট করে দেয়।

৩. শিশুর শারীরিক খেলাধুলার সময় কেড়ে নেয়। এতে শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. শিশুর শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দেয়। এতে ওজন বাড়ে।

৫. পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে বন্ধন কমিয়ে দেয়।

৬. সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।

৭. শিশুর স্বাভাবিক আচার-ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে।

৮. শিশুর মাথাব্যথা, চোখব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়াসহ চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে।

৯. শিশুকে ধূমপান, মদ্যপানসহ মাদকে আসক্ত করে।

১০. অতিরিক্ত টেলিভিশন শিশুর ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকসহ নানা জটিলতা বাড়ায়।

প্রতিকার

১. শিশুরা অনুকরণপ্রিয়, তাই আপনাকে আগে টিভি দেখা কমাতে হবে এবং অতিরিক্ত টিভি দেখার কুফল শিশুকে বোঝাতে হবে।

২. শিশুকে প্রতিদিন আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার বেশি টিভি দেখতে দেবেন না।

৩. শিশুর ঘুমানোর ঘরে টিভি রাখবেন না।

৪. শিশুর খাওয়ার সময় টিভি দেখাতে দেখাতে শিশুকে খাবার খাওয়াবেন না।

৫. টিভির বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করুন। শিশুর জন্য যাতে টিভির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমে।

৬. সপ্তাহে একদিন শিশুকে টিভি দেখা থেকে বিরত রাখুন।

৭. বাসার পড়াশোনা বা হাতের কাজ করার সময় শিশুকে টিভি দেখতে দেবেন না।

৮. মা-বাবা সবাই ব্যস্ত, শিশুটি তাদের কাজে বিঘ্ন বা জ্বালাতন করছে, এ অবস্থায়ও শিশুদের টিভি দেখাতে বসিয়ে এ বিষয়ে আসক্ত করবেন না।

যদি সুস্থ থাকতে চান তাহলে অযথা টেলিভিশনের সামনে বসে সময় কাটানোর পরিমাণ কমিয়ে দিন। কারণ এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এবং শিশুদের টিভি দেখা যেমন প্রয়োজনীয় তেমনই অতিরিক্ত টিভি দেখা অত্যন্ত খারাপ। তাই পরিবারের বড়দের সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে, বাচ্চারা যেন অতিরিক্ত টিভি না দেখে। পাশাপাশি এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, বাচ্চারা যখন টিভি দেখবে তখন যাতে তারা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান বা শিশু সংক্রান্ত কোনো অনুষ্ঠানই দেখে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: