শিশুর হাতে স্মার্টফোন না দিয়ে প্রকৃতির মাঝে নিয়ে যান

   
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯

প্রযুক্তির উৎকর্ষে দৈনন্দিন জীবনে আমরা হয়ে যাচ্ছি ডিজিটাল দাস। অবসর সময়ে কাটছে গল্প করে নয়, স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। যা আমাদের জন্য অশনি সংকেত বলা যায়। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে শুধুমাত্র স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে থেকেই বছরে মোট ৭৫ দিন কেটে যাচ্ছে। জেগে থাকা সময়ের এক-তৃতীয়াংশই স্মার্টফোন ব্যবহার করছি। আগে যে সময়টা আমরা পরিবারের সাথে দিতাম সেটা এখন ডিজিটাল স্ক্রিনে। এর বাইরে নেই শিশুরাও।

স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিভো’ ও ‘সাইবারমিডিয়া’র এক যৌথ জরিপের প্রকাশিত ফলাফলে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা জানায়, এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই হাজার সদস্যদের অর্ধেকের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করতে অস্বীকার করেছেন। অনেকেই মনে করেন স্মার্টফোন ছাড়া জীবন ধারণ সম্ভব নয়। এদিকে বেশিরভাগ শিশুর হাতে স্কুল বয়স থেকেই স্মার্টফোন দেখা যায়। এতে করে তারা স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ বা কোনো কিছু জানার আগ্রহ হলে সে ফোনেই সব করে নিচ্ছে। এতে করে শিশুর দূরত্ব বাড়ছে পরিবার ও প্রকৃতির সঙ্গে। যার প্রভাব তার পুরো জীবনে পড়বে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটের যুগের শিশুরা ডিজিটাল ডিভাইস হাতে বড় হচ্ছে। এর ফলে সমাজের কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের আবেগ প্রকাশের উপায়। বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী শিশু-কিশোরই বন্ধু ও পরিজনদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।

গবেষণায় আরও যে ভয়াবহ তথ্যটি তারা দিয়েছে সেটা হল এইসকল শিশুরা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতেও পছন্দ করেনা। ফলে তাদের মধ্যে ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সারাক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকায় দৃষ্টিশক্তিরও ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও তাদের মনোযোগ ও ধৈর্য কম থাকে। স্মার্টফোন আমাদের জীবনে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর ব্যবহারে এখন থেকেই সেটা ব্যাবহারে আমাদের সীমাবদ্ধতা আনা উচিৎ। বিশেষ করে ছোটদের সামনে। কারণ পরিবারের বড়রা যদি সারাক্ষণ ফোন হাতে থাকেন, তবে স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ শিশুরা কেন শুনবে?

তাইতো সুস্থ-সুন্দর-সফল-মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময় পেলেই শিশু-কিশোরদের প্রকৃতির মাঝে নিয়ে যান। তাদের চারপাশের মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিন। ছোট বেলা থেকেই শিশুকে দেশ, মানুষ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখান।

এফএএস/এসএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: