শিমুল বারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিডি২৪লাইভকে মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একবার হলেও সংসদে যেতে চান দলের সাংগঠনিক সম্পাদক

   
প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, ৮ আগস্ট ২০১৯

পুণ্য ভূমি সিলেটের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ। জাতির জীবনে ১৫ আগস্ট যখন বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটে, তখন ক্লাস নাইনে পড়েন তিনি। ঐ বয়সে বাবা-মা হারানো সন্তানের মনের ভেতর যে কষ্ট অনুভূতি হয়, ১৫ আগস্টের ঘটনায় তারও তেমন অনুভূতি হয়েছে বলে বিডি২৪লাইভকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এই সাংগঠনিক সম্পাদক। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য না পাওয়ার কষ্ট, তার কন্যা আওয়ামী লীগ সভপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হয়ে কাজ করতে পেরে সেই কষ্ট কিছু হলেও লাঘব হয়েছে তার। বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোস্তাককে গণধোলাই দিয়ে সিলেট থেকে বিতাড়িত করেছিলেন ১৯৮৪ সালের সিলেট ছাত্রলীগের সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পড়াশোনা শেষে আইন পেশায় যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দুবার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল ও বিশ্বাসের জায়গা। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পর পর তিন বার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ও সদালাপী এই মানুষটি। শেখ হাসিনা তাকে যেখানেই কাজ করার সুযোগ দিবেন, তিনি সেখানেই কাজ করে যাবেন মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত। তার এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বিডি২৪লাইভকে একান্তে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিডি২৪লাইভের স্টাফ রিপোর্টার শিমুল বারী।

বিডি২৪লাইভ: আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের কিছু স্মৃতিগাঁথা কথা বলুন?
মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ: আমার প্রেরণার নাম হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কন্যা আওয়মী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছে আমার বিশ্বাস ও আশ্রয়স্থল। আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে আমার একমাত্র অনুভূতির নাম। আমাদের পুরো পরিবার বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে উদ্ভাসিত। স্কুল জীবনে থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার কাছে এক বীরের নাম। আমার জীবনে সবচেয়ে দুর্ভাগ্য যে, আমি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাইনি। তবে আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ঘিরেই। ১৯৮৪ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোস্তাককে পুণ্য ভূমি সিলেট থেকে গণধোলাই দিয়ে বিতাড়িত করেই ক্ষান্ত হইনি, তার সভামঞ্চ জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। এজন্য আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৭ মাস জেল খাটতে হয়েছিল। আমি মনে করি, ওটাই আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা ঘটনা। তখন নিজের ভেতর এই উপলব্ধি হয়েছে যে, জাতির পক্ষে কিছুটা হলেও পাপ মোচন করতে পেরেছি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আমি সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। পরে সেই কলেজের জিএস নির্বাচিত হই। তাছাড়া সিলেট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। তবে আমার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ২০০৪ সালের ৭ই আগস্টের গুলশান সেন্টারের জঙ্গি হামলা। ওই সময়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। তখন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আহত অবস্থায় মারা যায়। সৌভাগ্যবসত সেই সময়ে আমি বেঁচে যাই। সেই সময়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফোন দিয়ে নেত্রী আমার খোঁজ খবর নেন এবং ১২ আগস্ট দেখতে যান। সিলেট থেকেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশের ডাক দেন শেখ হাসিনা। সেই ২১ আগস্টের সমাবেশে নেত্রী যখন বক্তৃতা দিয়ে বলেছিলেন, সিলেটে আমাদের ইব্রাহিমকে হত্যা করা হয়েছে এবং মহনগরের সাধারণ সম্পদক মেসবাহ আহত… তখননি জঙ্গিরা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূণ্য করতে মোহ মোহ গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে সময়ে নেত্রী বেঁচে যান। তবে আমাদের জাতীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন শহীদ হন। ওই ঘটনা এখনও আমার রাজনৈতিক জীবনে দাগ কাটে। কারণ নেত্রী আমাকে দেখে সিলেটে বসেই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। সেটা স্মরণীও বলতে পারেন। ২০০৪ সাল থেকে সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। কেউ কখনও বলতে পারবে না কারও প্রতি বিরাগভাজন হয়েছি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত দলের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে মরতে চাই।

বিডি২৪লাইভ: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে পদ প্রাপ্তির বিষয়ে কিছু বলেন?
মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ: আমি তৃণমূলে নেতা। সারাজীবন মফস্বলের রাজনীতি করেছি। আমার একমাত্র আশ্রয়স্থল হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রী আমাকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিন বার দায়িত্ব প্রদান করেছেন ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে। আমি চেষ্টা করে গেছি নেত্রীর আস্থার প্রতিদান দিয়ে সততার সহিত দায়িত্ব পালন করার। কতটুকু পেরেছি তা নেতাকর্মীরাই মূল্যায়ন করবে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কখন কার ভাগ্যে কি হয় কেউ বলতে পারে না। আমি আশাবাদী মানুষ। হতাশা আমার জীবনকে কখনও ছুঁতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। আমি ধর্মপ্রাণ মানুষ। আল্লাহর প্রতি আমার অসীম বিশ্বাস।

বিডি২৪লাইভ: দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে যদি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি বা পদোন্নতি দেয়া সে বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ: রাজনীতিতে পদ কখনও মুখ্য হতে পারে না। পদের বাইরেও কাজ করা সম্ভব। নেত্রীর প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। রাজনীতির মাঠে কাকে দিয়ে কোথায় খেলাবেন না বসিয়ে রাখবেন সেটা নেত্রীর চেয়ে ভালো আর কেউ বুঝেন না। আমি দলের প্রতি আনুগত্য রেখে আজীবন কাজ করতে প্রস্তুত। আমার কাছে পদ মুখ্য নয়, বঙ্গুবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি কি পেলাম তা বড় কথা নয়।

বিডি২৪লাইভ: রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত নিজের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোন অপ্রাপ্তি আছে কি?
মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ: সিলেট ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী খন্দকার মোস্তাক, জিয়া ও এরশাদকে পুণ্য ভূমি সিলেটের মাঠে নামতে দেইনি। তখন কিন্তু আওয়ামী লীগের কোন নেতাকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। জিয়া-এরশাদের শাসনামলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ সাত বছর জেল খেটেছি। সব সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি আনুগত্য পোষণ করেছি। অন্য কোন আওয়ামী লীগে যাইনি। কখনও নিজের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেইনি। সত্যি বলতে কি, আমার সাথে যারা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা সকলেই জনপ্রতিনিধি হয়েছেন অথবা তাদের সহধর্মীনি হয়েছে। সেই সৌভাগ্য আজও আমার হয়নি। আমি যেহেতু রাজনীতি করি- তাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার আকাঙ্খা আমার মাঝেও কাজ করা দোষের নয়? তবে আমি কখনও দলের বিরুদ্ধে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই। তবে আমার খুব ইচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একবার সংসদে যাওয়ার। তাহলে আমার চেয়ে খুশি ও সুখী মনে হয় এ পৃথীবিতে আর কেউ হবে না। এটাই আমার একমাত্র চাওয়া বলতে পারেন।

বিডি২৪লাইভ: আপনি সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান? দেশবাসীর কাছে সিলেট-১ আসনের মর্যাদা আলাদা উচ্চতায় অবস্থান করে। এই আসন থেকে যে দলের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, তারাই ক্ষমতায় এসেছেন। তাই সকল রাজনৈতিক দল সিলেট-১ আসনটিকে অত্যন্ত মর্যদার চোখে দেখে থাকে। তাই এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী দেওয়া হয়। আপনি কি মনে করেন, এই আসন থেকে ভবিষ্যতে মনোনয়ন পেলে আপনি বিজয়ী হতে পারবেন?
মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ: সিলেট-১ আসনে শাহ জালাল ও শাহপরান-এর মাজার অবস্থিত। আমরা যেহেতু ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাই আমাদের আবেগ এখানে জড়িত। বঙ্গবন্ধু ও আমাদের নেত্রীও এখান থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেন। অন্যান্য দলও তাই করে থাকে। দেশবাসীর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছেও সিলেটের এই জায়গাটি পুণ্য ভূমি। এখানে অতীতে যারা নির্বাচন করেছে, তারা সকলেই বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ। এ আসনে খন্দকার আব্দুল মালেক, দেওয়ান ফরিদ গাজী, হুমায়ন রশিদ চৌধুরী, সাইফুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতো সজ্জন ব্যক্তিরা নির্বাচন করেছে। সর্বশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন নির্বাচন করেছে। আমার রাজনৈতিক ও কর্মজীবন সব সিলেটের পুণ্য ভূমিতে। আমি মহনগর পিপি’র দায়িত্ব পালন করছি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করছি ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত। আমার রাজনৈতিক জীবন তাদের মত বর্ণাঢ্য নয়, তবে আমাদেরকেও সুযোগ করে দিলে হয়তো একদিন তাদের কাছাকাছি যেতে পারব ইনশাল্লাহ। প্রতিটি রাজনীতিবিদের জীবনে স্বপ্ন থাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার। আমিও এ ইচ্ছের বাইরের মানুষ নই। তাছাড়া আমার জন্মস্থান সিলেট-৩ আসন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জের মানুষ আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে দেখতে চায়।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: