প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

‘শেখ হাসিনা দয়া বর্ষণ করলেই আমরা কিছুটা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হই’

   
প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ২১তম জাতীয় সম্মেলনে ঘোষিত হওয়া কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ। রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এ কথা বলেন। স্ট্যাটাসে স্বপন বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আমাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করলেই আমরা নেতা, আমরা কিছুটা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হই।’ উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের গত কমিটিতেও তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ছিল এরকম,

‘গতকাল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আবার প্রমাণ হল, উন্নয়নমাতা শেখ হাসিনাই একক এবং একমাত্র নেতা। তিনি আমাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করলেই আমরা নেতা, আমরা কিছুটা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হই। তাঁর অপরিসীম আলোয় আমরা আলোকিত। আমাদের নিজস্ব কোন আলোকচ্ছটা নেই। কেবলমাত্র তাঁর আলো বর্ষিত হলে সেই আলো আমাদের শরীর থেকে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমগ্র নেতাকর্মী এবং দেশের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা কেবলমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। আমাদের ওপর নয়। তিনি না চাইলে আমার বর্তমান পদ অব্যাহত থাকতো না। তার এই দানকে আমার যোগ্যতার প্রাপ্তি বলে অহংকারে মাটিতে পা না পড়লে সর্বনাশ হবে আমার, ধ্বংস হবো আমি। সম যোগ্যতা বা কাছাকাছি যোগ্যতার অসংখ্য নেতাকর্মী আছেন এই বিশাল দলে। তাহলে আমাদের কিসের এতো অহংকার ! কিসের এতো দম্ভ! চারিদিকে আমাদের ছবি প্রদর্শনের কেন এতো অসুস্থ প্রতিযোগিতা! কেন আমরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে জনমনে বিরক্তির উদ্রেক করে দল ও সরকারকে বিব্রত করি?

কেন জাতির পিতার ছবি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হয়! কেন নেত্রীর ছোট একটি ছবি সংযোজন করে আমাদের ঢাউস সাইজের নানান ভঙ্গির ছবি টাঙ্গাই বা টাঙ্গাতে অনুমোদন দিই, উৎসাহিত করি! কেন কোন জেলা, উপজেলায় বা নিজ আসনে আমাদের ছবির বাহারি প্রদর্শন না করলে আমরা উষ্মা প্রকাশ করি? ‘কেন জাতির পিতা ও মুজিবকন্যার মাইক্রোস্কপিক ছবির সাথে আমাদের ঢাউস সাইজের ছবির নীচে সৌজন্যে একজন সমাজবিরোধী ভূমি দস্যু/ মাদক ব্যবসায়ী/ মাদকসেবী/ চাঁদাবাজ/ ক্ষমতা প্রদর্শনকারী/ হাইব্রিডকে তার ছবি প্রদর্শন করতে অনুমোদন দিই? যাদের ছবি আমাদের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়, তাতে আমাদের ব্যক্তিগত ইমেজ বৃদ্ধি পায় অথবা দলের কষ্টার্জিত ভাবমূর্তি অম্লান থাকে! কেন বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস বা জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা, মুজিব কন্যা, বীরশ্রেষ্ঠ বা মহান শহীদদের ছবির পরিবর্তে আমাদের ছবির প্রদর্শনকারী ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করি না? আমরা কি নিজ ছবি প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হতে পারি না? আমরা কি কেবলমাত্র জাতির পিতা এবং বাঙালীর অমূল্য সম্পদ, উন্নয়ন, মানবতা ও কল্যাণের অসীম কারিগর শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারি না। পিতা, কন্যার অপরিসীম জনপ্রিয়তার পাশে আমাদের ছবি প্রদর্শন কি জনমনে আওয়ামী লীগের ইতিবাচক ইমেজ সৃষ্টি করে, না কি দল ও আমাদের নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করে? আসুন, সবাই একটু মানুষের মন-মানসিকতা অনুধাবন করি। দল ও নেত্রীর সম্মান রক্ষা করি। নেত্রীর দেওয়া সম্মান ও ক্ষমতা মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করে জনতার মানসপটে নিজেদের ছবি আঁকি। সেই ছবি অমর হবে, অম্লান হবে। বিলবোর্ড রাজনীতিবিদকে জনপ্রিয় করে না, মহৎ কর্ম ও জনসম্পৃক্ততা রাজনীতির দীর্ঘজীবন দেয়।’

এফএএস/এসএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: