প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরে নিজের প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে শহীদ মিনার হওয়ায় খুশি শিশু শিক্ষার্থীরা

   
প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শেরপুরের নকলায় নিজের প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে শহীদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হওয়ায় খুশি শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বসাধারণ। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ, বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ও বানেশ্বরদী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথ মাঠে শহীদ মিনার নির্মানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ, বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, বানেশ্বরদী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানেশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসীদের আর্থীক সহযোগিতায় এ মহৎ কাজের শুভ সূচনা করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর তাসলিমা খাতুন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমানের পরামর্শে এই মহৎ কাজটি বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও বানেশ্বরদী ইউপির চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত শহীদ মিনার নির্মানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কাজ উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার, বানেশ্বরদী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মেহেদী ডাঙ্গা খেলাঘর আসরের সভাপতি আজহারুল ইসলাম ফিরুজ, বানেশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাফিজুল হক, কামাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার আখতারুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ নকলা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. মোশারফ হোসাইন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন মিন্টু, বানেশ্বরদী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লুকমানুর রহমান, লুৎফর রহমান লিটন, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আব্দুস ছাত্তার, ইউপি সদস্য জহির রায়হান শান্ত, খাদ্য গুদামের পরিবেশক আক্তার মিয়া, স্থানীয় রাকিব মিয়াসহ এলাকার গন্যমান্য, সাংবাদিক ও বানেশ্বরদী ইউপিতে কর্মরত গ্রাম পুলিশরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্মান কাজ উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সকলকে সাথে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পরে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম।

বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা গেছে, উপজেলায় ৩০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। আর প্রক্রিয়াধিন আছে ৫/৬ টিতে। ২০ টি মাদরাসার মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র একটিতে, নির্মাণাধীন আছে ২/৩ টিতে। আর ৩টি কলেজের সব কয়টিতেই শহীদ মিনার আছে। সরকারি ১১৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার আছে ১০/১২ টিতে। সরকারি স্লিপের টাকায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্তরে শহীদ মিনার নির্মানের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। তাছাড়া ৪০ থেকে ৫০ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনটিতে শহীদ মিনার নেই। তাছাড়া পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কেজি স্কুল গুলোর হাতে গুণা ২/৩ টি ছাড়া, বাকী গুলোতে শহীদ মিনার নেই। তবে বঙ্গবন্ধু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মানের কাজ চলমান আছে।

এসকল তথ্য মতে, নকলা উপজেলার মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে।

যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসকল প্রতিষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারির দিন সাধারণত বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকলেও, ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মিলে বাঁশ, কাঠ, কলাগাছ, কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে সেখানে বরাবরের ন্যায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: