প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শেরপুরে হাটের জায়গা দখল করে পজিশন বাণিজ্যে

   
প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, ১৪ জুলাই ২০২০

আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর, বগুড়া থেকে: বগুড়ার শেরপুরে চৌবাড়িয়া বথুয়াবাড়ী জিগাতলা হাটের জায়গা দখলের মহোৎসব চলছে। হাটের ফাঁকা জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে সেখানে টিন দিয়ে দোকানঘর নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে এসব দোকানঘর স্থানীয়দের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার নামে চলছে ‘পজিশন বাণিজ্য’। প্রতিটি দোকানঘরের পজিশন বিক্রি করা হচ্ছে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায়। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র। এদিকে এই দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারা হাটের জায়গায় অবৈধভাবে দখল ও ঘর নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত ও তার পক্ষ থেকে দেয়া ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, শেরপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া মৌজায় ২৬৭ নং এমআরআর ও ১০১৭নং খতিয়ানভুক্ত ৪০শতক জমির ওপর ‘চৌবাড়িয়া বথুয়াবাড়ি জিগাতলা নতুন বাজার’ নামে ওই হাটের অবস্থান। এই হাটে গ্রামের সাধারণ দরিদ্র জেলে, কামার, কুমার, তাঁতীসহ নিম্ন আয়ের লোকজন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এলাকার চান্দু মন্ডল এই হাটের জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এমনকি হাটের জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আ.লীগ নেতা খলিলুর রহমান অভিযোগ করে আরও বলেন, দরিদ্র ব্যবসায়ী লোকজনের আয়-রোজগারের পথ কেড়ে নিতেই তাদের উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা চলছে। সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি হাটের জায়গা জোরপূর্বক দখল এবং ঘর নির্মাণ করে নতুন করে বরাদ্দ দেয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে ‘পজিশন বাণিজ্যে’ মেতে উঠেছেন তারা। এই দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) এবং তিনিসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা-মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এরপরও থেমে যাননি তারা। হাটের জায়গায় অবৈধ ঘর নির্মাণ বন্ধসহ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কের পাশে এবং বথুয়াবাড়ি ব্রিজ সংগলগ্ন চৌবাড়িয়া জিগাতলা হাট-বাজারটি অবস্থিত। ছোট-বড় বেশকিছু ইটের পাকা ও টিনের দোকানঘ রয়েছে। ঠিক হাটের মধ্যে পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা অবৈধভাবে দখলের উৎসব চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এবং পাহারায় চার-পাঁচজন শ্রমিক একেকটি দোকানের পজিশন আকারে বাঁশ-কাঠ ব্যবহার করে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চান্দু মন্ডল নিজেকে গরীবের নেতা দাবি করে বলেন, হাটের এই জায়গায় অনেক গর্ত ছিল। তাই এলাকার ২৮জন দরিদ্র মানুষ এক হয়ে এই জায়গায় বালি-মাটি ফেলে ভরাট করেছেন। এখন তারাই টিনের ঘর তুলছেন। যাতে এখানে ছোট-খাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। তাই পজিশন বিক্রি ও বাণিজ্যের কোন প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি। তবে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-ঘাটের সরকারি জায়গা দখলের মহোৎসব চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় চৌবাড়িয়া জিগাতলা হাটের জায়গা জবরদখল করে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছেন। ফলে ভূমিদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জামশেদ আলাম রানা এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে ওই হাটের জায়গা দখলের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। পাশাপাশি হাটের জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে সেখানে জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর আবার ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে-এমন খবর জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: