প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন অর রশিদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সংসার করার অপেক্ষায় রুনার দশদিন, স্বামী উধাও

   
প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, ১৩ আগস্ট ২০২০

স্বামী মিন্টু আলীর সাথে রুনা লায়লা

পঞ্চগড়ে স্বামীর সাথে একবছর সংসার জীবন পার করলেও স্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছেনা রুনা লায়লা নামে এক নারী। বিয়ের পর প্রথমবারের মত শ্বশুর বাড়িতে এলে উধাও হয়েছে স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার আটোয়ারী উপজেলার তোড়েয়া ইউনিয়নের সুখ্যাতি গ্রামে। দশদিন থেকে রুনা তার স্বামীর আশায় প্রহর গুনছে শ্বশুর বাড়িতে। এ নিয়ে আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্য সৃস্টি হয়েছে।

জানা গেছে রুনা লায়লা তিন বছর আগে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। সেখানেই মিন্টু আলীর সাথে পরিচয় হয় রুনা লায়লার। সেই সুবাদে মিন্টুর সাথে প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২০১৯ সালে বিয়ে করে সংসার জীবন গাজীপুরে শুরু হয়। বিয়ের এক বছর পর গত ঈদ উল আযাহার পরদিন রুনা লায়লা সুখ্যাতি গ্রামের আলিমউদ্দিন এর বাড়িতে আসলে শুরু হয় দুই পরিবারের দ্বন্দ। এক পর্যায়ে মিন্টু বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

মেয়েটির পরিবার জানায় বিয়ের পর নানাভাবে মিন্টু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল মিন্টু । সর্বশেষ গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে বেধড়ক শারীরিক নির্যাতন করে রুনা লায়লাকে গাজীপুরে একটি ভাড়া বাড়িতে রেখে মিন্টু তার আটোয়ারী উপজেলা তোড়িয়া ইউনিয়নের সুখ্যাতির বাসায় ফিরে আসে। তার কয়েকদিন পর গত ঈদ উল আযহার পরদিন গাজীপুর থেকে রুনা তার শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসে। রুনা বাড়িতে আসার খবর পেয়ে মিন্টু বাড়ি থেকে উধাও হয়। এদিকে মিন্টুর বাবা মা ওই নারীর বিয়ে মেনে নিতে রাজি হয়নি। তবুও গত দশদিন থেকে মিন্টুর বাড়িতে স্বামীর আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে রুনা।

ওই নারীর বাবা আব্দুর রহিমের অভিযোগ এক বছর সংসার জীবন পার করে আমার মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়নি মিন্টুর পরিবার । গত ২ আগষ্ট থেকে রুনা লায়লা স¦ামীর বাড়িতে অবস্থানের পরও মিন্টু বাসায় ফিরছেনা। প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে মিন্টু ও তার পরিবার। এক বছরের সংসার জীবনে আমার মেয়েকে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে মিন্টু। তারপরও লোকলজ্জার ভয়ে আমরা কিছু বলিনি। আমার মেয়ের সাথে এক বছরের দাম্পত্য জীবন পার করে উল্টো মিন্টুকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে তার বাবা আলিমউদ্দিন। গত দশ দিন থেকে সংসার করার আশায় স্বামীর বাড়িতে অনশন করছে আমার মেয়ে।

এদিকে মিন্টুর বাবা আলিমউদ্দিন এর সাথে মুঠোফোনে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি প্রথমে সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ জানায় । তিনি বলেন আমার ছেলে মিন্টু আমাকে তার বিয়ের কথা কখনোই বলেনি। মেয়েটির বিয়ের কোন দালিলিক প্রমান পাওয়া যায়নি এজন্যই বিয়েটি মেনে নিতে পারছিনা ।

তোড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব আজাদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানায় ছেলে ও মেয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকে পরস্পর বিরোধী মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। আসলে এটি আইনগত বিষয় এজন্য দুই পক্ষকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামার্শ দিয়েছি। তবে উভয়ের পরিবার যদি শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করতে চায় তাহলে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: