প্রচ্ছদ / অন্যান্য... / বিস্তারিত

সন্তানের লাশ পাশে রেখে ১৭ ঘণ্টা!

   
প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, ১৭ মে ২০২০

ছবি: প্রতীকী

মৃত্যুর পর জানা গেছে স্বামী করোনা আক্রান্ত ছিলেন। এর পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে গত বুধবার থেকে তিনি বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন। এর মধ্যে শুক্রবার (১৫ মে) গভীর রাতে বাসায় আইসোলেশনে থাকা অবস্থাতেই প্রাণ হারান ওই নারীর অসুস্থ বড় সন্তান। করোনা সাসপেক্টেড থাকায় লাশ দাফন-কাফনের সহায়তা না পাওয়ায় সন্তানের লাশ বিছানায় রেখেই তাকে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা। পরে খবর পেয়ে এগিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের সার্বিক সহায়তায় লাশটি বাসা থেকে বের করে শনিবার (১৬ মে) রাত ১০টায় জানাজা ও দাফনের সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনাটি চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার। মৃতের ছোটভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ (ম্যানেজমেন্ট) এর ছাত্র হাবিবুল্লাহ রিফাত জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তার বাবা। মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় তার বাবার করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এর ফলে যথারীতি বাসায় মা, বড় ভাই এবং এক বোনকে নিয়ে সবাই আইসোলেশনে ছিলেন।

আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাত ১২টার দিকে তার বড় ভাই মারা যান। করোনা সাসপেক্টেড থাকায় বাসার সবাই ছিলেন পরস্পর থেকে আইসোলেটেড। এই অবস্থায় রাত ১২টার পর থেকে বড় ভাইয়ের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাসার সবাই নিশ্চিত হন বড় ভাই আর বেঁচে নেই।

এই অবস্থায় রাতে লাশের কোনো সুরাহা করতে না পেরে সকালে সহায়তা কামনা করে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেন রিফাত। এছাড়া ফোনে ফোনে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে সহায়তা প্রার্থনা করেন। এর মধ্যে কেটে যায় প্রায় ১৭ ঘণ্টা।

পুরো সময় ধরে সন্তানের লাশ বিছানায় রেখেই পাশে ছিলেন মা। সাথে ভাই-বোন। কিন্তু লাশ দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না করোনা আক্রান্ত পরিবারটি। সর্বশেষ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম স্বউদ্যোগে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারকে জানান।

ঘটনা জানতে পেরেই পুলিশ কমিশনার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সাথে সাথেই পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো এবং দাফন কাফনের ব্যবস্থা করে।

মৃতের ছোট হাবিবুল্লাহ রিফাত জানান, বাবা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় আমরা সবাই করোনা সাসপেক্টেড হিসেবে আইসোলেশনে। এই অবস্থায় ভাইয়ের লাশ নিয়ে মা’সহ পুরো পরিবার এক রাত একদিন দুঃসহ সময় কাটিয়েছি। সর্বশেষ পুলিশের সহায়তা ও মানবিকতায় শনিবার রাত ১০টার দিকে ভাইয়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন আমি, মা ও বোনকে নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকার যুদ্ধ। পুলিশ লোক পাঠিয়ে আমাদের ঘর ডিসইনফেকশন করার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যান্য সব বিষয়ে পুলিশ সহায়তা করছে।’

পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ সময় বাসায় লাশ পরে থাকার বিষয়টি পুলিশকে কেউ সাথে সাথে জানায়নি। যখনই জানানো হয়েছে পুলিশ তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। লাশ দাফনের পাশাপাশি পরিবারটিকেও পরবর্তী সব সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: