সন্তান জন্ম দিলেন সিঙ্গাপুরে করোনায় গুরুতর অসুস্থ বাংলাদেশির স্ত্রী

   
প্রকাশিত: ৯:০০ পূর্বাহ্ণ, ১ এপ্রিল ২০২০

সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক বাংলাদেশি কর্মীর স্ত্রী এক ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুরের মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার (এমডব্লিউসি) জানায়, ওই কর্মীর স্ত্রী বাংলাদেশে এই সন্তানের জন্ম দেন। সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশি ওই ব্যক্তি দেশটির ৪২তম রোগী। গত ৮ ফেব্রুয়ারি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার একদিন আগে তিনি চাঙ্গি জেনারল হাসপাতালের (সিজিএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি হন। পরে তাকে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসে (এনসিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। এমডব্লিউসি মঙ্গলবার ফেসবুকে লেখে, করোনায় আক্রান্ত ৪২তম রোগী স্ত্রীর কাছ থেকে আমরা সুখবর পেয়েছি, গতকাল (সোমবার) তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছে।

সন্তান জন্ম দেয়ার আগের দিন ওই রোগীর উপস্থিতিতেই তার মেডিকেল টিমের সঙ্গে তার স্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স করেছে এমডব্লিউসি।
যদিও তিনি ঘুমের ওষুধে ছিলেন, তারপরও শেষ মুহূর্তে তার চিকিৎসকরা যে সহায়তা করেছেন সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আর তার স্ত্রীর ভাষায়, সন্তান প্রসবের আগে তার স্বামীকে দেখতে দেয়ার তিনি শক্তি পেয়েছেন।

গত মাসে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, ৩৯ বছর বয়সী ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর। কেননা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি রেসপিরেটরি ও কিডনির সমস্যা এবং নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। এমডব্লিউসি মঙ্গলবার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ‘এখন করোনা ভাইরাস মুক্ত এবং ‘কয়েকদিন আগে’ এনসিআইডিতে তাকে স্থানান্তর করা হয়। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি এখনও গভীর পর্যবেক্ষণে আছে এবং আইসিইউ রেখে তার চিকিৎসা চলছে। ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, তার অবস্থা এখনও গুরুতর কিন্তু তার অবস্থার যে উন্নতি হয়েছে তাতে আমরা আশাবাদী এবং সবাইকে তার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানাই।

সিঙ্গাপুরে যারা ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রতি উদ্বেগ দেখিয়েছে ও সহায়তা করেছে তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার স্ত্রী। বিশেষ করে এমন এক সময় তার স্বামীর চিকিৎসা করায় মেডিকেল টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ গ্রুপ ইটসরেইনিংরেইনকোটসও মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর জন্য ডায়াপার, ফর্মুলা দুধ ও সফট টয়সহ বিভিন্ন জিনিসের ৩৩ কার্টুন সংগ্রহ করতে একটি প্রচারণা চালায় সংস্থাটি। সংস্থাটি জানায়, তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জিনিসপত্র পাওয়ায় সিঙ্গাপুরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া দুজন শ্রমিকের পরিবারকেও সহায়তা করেছে।

ইটসরেইনিংরেইনকোটস এর প্রতিষ্ঠাতা দীপা স্বামীনাথন বলেছেন, শিশুটি সুস্থভাবে জন্ম নেয়ায় এবং মা-শিশু সুস্থ থাকায় তারা আনন্দিত ও নিশ্চিন্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা তার (ওই ব্যক্তির স্ত্রী) কাছ থেকে প্রতিদিন খবর নিচ্ছিলাম। আমরা তাকে যেসব জিনিসপত্র পাঠিয়েছি তা তিনি কয়েকদিন আগে পেয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীপা বলেন, এসব কার্টুন খোলার পর তার সদ্যোজাত শিশুর জন্য সুন্দর কাপড় ও খেলনা দেখে সে খুশি হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা শিশুটির বাবার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি।

ওই বাংলাদেশি নাগরিকের শরীরে ১ ফেব্রুয়ারি করোনার লক্ষণ দেখা দেয় এবং দুদিন পর তিনি একটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা করান। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সিজিএইচ এ ভর্তি হন।খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়ার।

৭ ফেব্রুয়ারি বেদোক পলিক্লিনিকে ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যান ওই ব্যক্তি এবং ওইদিনই তাকে সিজিএইচ এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরদিন তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে এবং তাকে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসে স্থানান্তর করা হয়।

বাংলাদেশি ওই ব্যক্তি সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটসে একজন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি মুস্তাফা সেন্টারে গিয়েছিলেন এবং কাকি বুকিত রোডে দ্য লিও ডরমেটরিতে অবস্থান করেছিলেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: