প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সমান কাজ করেও পুরুষেরা পাচ্ছেন ৪০০, নারী ৩০০!

   
প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বোরো চারা রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও কাজ করছেন জমিতে। নারী ও পুরুষ শ্রমিক সমানতালে একই কাজ করলেও রয়েছে মজুরি বৈষম্য। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা জুড়ে পুরোদমে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণ কাজ। নাওয়া খাওয়া ভুলে সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি সময় কাটাছে মাঠেই। তবে এ এলাকায় পুরুষ কৃষাণের চেয়ে বেশি সংখ্যায় রোপণ কাজ করছেন নারী কৃষাণীরা। দৈনিক মজুরিতে রোপণ কাজ করছেন তারা। তবে রয়েছে মজুরি বৈষম্য।

উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুরের সূর্যপাড়া গ্রাম থেকে জমিতে কাজ করতে এসেছেন আদিবাসী নারী শ্রমিক পুষ্প মার্ডি, বাহামনি মুর্মু, নির্মলা টুডু, ইপিপিনা মার্ডি সহ আরও অনেকে। তারা বলেন, কৃষি কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। সকালে উঠে বাড়িতে রান্নাবান্না শেষ করে দুপুরে নিজেদের খাবার সঙ্গে বেঁধে নিয়ে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মাঠে বোরো চারা রোপণ কাজ করছেন তারা। পুরুষ কৃষাণের তুলনায় বেশি কাজ করেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। তারা বলেন একই কাজ সমান তালে করলেও তারা কেন পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে মজুরী কম দেয়া হয়।

স্থানীয় কৃষক জাবেদ খান বলেন, তিনি সকাল ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জমিতে কাজ করে তিনি প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে দিন মজুরি পাচ্ছেন। নারীরা বাড়ির সব কাজ-কর্ম করে জমিতে দেরি করে আসার কারণে জমি মালিকরা তাদেরকে কম মজুরি দিচ্ছেন। উপজেলার খয়েরবাড়ি ইউনিয়নের মুক্তারপুর ডাঙাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বাবু বলেন, তিনি এ বছর পৌণে দুই বিঘা জমিতে বোরো চারা রোপণ করছেন। পুরুষ কৃষাকের তুলনায় নারী কৃষাণীদের কাজের মান ভালো হওয়ায় তিনি নারী শ্রমিক দিয়ে বোরো চারা রোপণ কাজ করাচ্ছেন। তবে নারীদের বেতন কম কারণ তারা সকাল ৯টায় কাজে আসেন আর পুরুষরা সকাল ৮টায় আসায় তাদের বেতন বেশি দেয়া হয়। তিনি দুপুরের খাওয়া বাদে নারী কৃষাকদের দিচ্ছেন ৩০০ টাকা ও পুরুষ কৃষাকদের দিচ্ছেন ৪০০ টাকা।

কৃষক বেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় কোন কৃষক-কৃষাণী না পাওয়ায় তিনি পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে ৬ জন কৃষক এনে পৌণে ৫ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করছেন। বাহিরের কৃষাণ তাই তাদের জন্য দুপুরের খাওয়ার আয়োজন করতে হচ্ছে। তাই একবেলা খাবার দেয়ার কারণে তাদের প্রত্যেককে ৩০০ টাকা করে দিন মজুরি দেয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকদের হাজিরা বেশি হলেও নারী শ্রমিকদের কিছুটা মজুরী কমে পাওয়া যায়।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: