প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে আক্রান্ত-মৃত্যু বাড়ছে: ফখরুল

   
প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, ১৯ মে ২০২০

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের প্রতি মন্তব্য করে বলেছেন, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জাতীয় করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সেলের’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এসব তথ্য তুলে ধরেন। করোনার এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল বলেন, সরকার শুরু থেকেই মানুষকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে উদাসীনতা দেখিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্যখাতকে অবহেলা করেছে। সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে; যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলেও আশঙ্কার কথা জানান বিএনপির এ নেতা।

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। যখন চীনে করোনা মহামারি শুরু হলো তখন সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তখন তারা অন্য একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। প্রথম থেকে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিলে আজ লাশের সারি দীর্ঘ হতো না। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা না থাকার কারণে সরকার এমন আচরণ করেছে। মানুষকে বাঁচাতে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার ঘোষিত ৪২টি টেস্ট সেন্টারের বেশ কয়েকটি সেন্টার কার্যকর নয়। যেসব সেন্টারে টেস্ট হচ্ছে তাও অপর্যাপ্ত। মানুষ লাইন ধরে ফিরে যাচ্ছেন টেস্ট না করে। আপনারা গণমাধ্যমে দেখেছেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের সড়কে কী লম্বা লাইন। আগের রাতে লাইন ধরে অসুস্থ রোগীরা কীভাবে শুয়ে আছেন, বসে আছেন। তারপরও টেস্টের সিরিয়াল পাচ্ছেন না। অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও একই অবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে পরিমাণ টেস্ট হচ্ছে তাও আবার এখনও পর্যন্ত দিনে ১০ হাজারে ওঠেনি। এরমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ শতাংশ উঠেছে। যদি বেশি টেস্ট হতো তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বেড়ে যেতো। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলেছে— টেস্ট টেস্ট টেস্ট। টেস্টের কোনও বিকল্প নেই। যত বেশি টেস্ট করা হবে, তত বেশি সংক্রমিত জনগোষ্ঠীকে বাঁচানো সম্ভব হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শপিং মল খোলার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, একদিকে শারীরিক-সামজিক দূরত্ব নিশ্চিতের কথা বলে আবার একই সময়ে সীমিত আকারে শপিংমল খোলা এবং যানবাহন চালু রাখা সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে দেখলাম, ৫০ লাখ কর্মহীন লোকের মাঝে ১২শ’ ৫৭ কোটি টাকা বিতরণ করছে সরকার। মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে, ব্যাংকের মাধ্যমে সে টাকা বিতরণ হবে। সেখানেও নগদ টাকা লুট হচ্ছে। একজনের মোবাইল নম্বরে ৩০৬ জনের নাম। অর্থাৎ ৩০৬ জনের টাকা একজন লুট করবে।’

বিএনপির মহাসচিব জানান, তার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এখনও পর্যন্ত সারাদেশে ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৬৯৩টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বিএনপি। এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি সারাদেশে অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, ‘ড্যাব ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন যৌথভাবে প্রায় ৭৫টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ইমারজেন্সি বিভাগে প্রায় ২ হাজার পূর্ণাঙ্গ পিপিই সরবরাহ করেছে। সেই সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে ড্যাব সদস্যরা দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রদান করছেন।’

ফখরুল অভিযোগ করেন, করোনার এই ভয়াবহ দুর্যোগেও সরকারের নিপীড়ন থেমে নেই। সরকারি ত্রাণের অনিয়ম, চাল চুরি ও করোনা নিয়ে সমালোচনা করায় এপর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যমকর্মীসহ ৪১১ জনকে গ্রেফতার করেছে সরকার। তিনি ডিজিটাল আইন বাতিলের দাবি করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও করোনা ভাইরাস জাতীয় পর্যবেক্ষণ সেলের আহবায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমন্বয়ক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: