প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সোহাগ হোসেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

ছাত্রলীগ নেতার পিস্তলটি এখন কোথায় ?

   
প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, ৯ অক্টোবর ২০১৯

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন। অস্ত্র উঁচিয়ে দাপটের সঙ্গে এক সময় কাঁপিয়েছেন সাতক্ষীরার অলিগলি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অস্ত্রবাজিতেও ছিল তার সরব উপস্থিতি। অস্ত্র গুঁজে ছবি তুলেও নিজের আধিপত্য আর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এক সময়। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের কারণে অস্ত্রসহ অয়নের একটি ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে দুই বছর আগে। যখন অয়ন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের জেলার শীর্ষ পর্যায়ের পদে থাকায় অস্ত্রটি বৈধ না অবৈধ সে প্রশ্নে বেশীদূর এগোয়নি কেউ। ছাত্রলীগের এই সাবেক নেতা সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ জুয়েল হাসান বলেন, আমাদের পরের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অয়ন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সুজন-অয়ন কমিটি দায়িত্বপালন করেন। পদ পাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠে তারা। অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজিসহ ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ছিল তারা পূর্ণ। ছাত্রলীগের এই সাবেক নেতা আরও জানান, অয়ন এমন কোন বিশিষ্ট কেউ নয় যে সরকার তার অস্ত্রের লাইসেন্স দেবে। জানা মতে তার বৈধ কোন অস্ত্র নেই। ছবিতে যে অস্ত্রটি নিয়ে ছবি তুলেছেন সেটি অবৈধ অস্ত্র। দখলবাজি করতে গিয়ে কোমরে অস্ত্র নিয়ে ছবি তোলে অয়ন। ছবিটি তুলে সে তার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে পড়ে তার কাছের মানুষ ছবিটি ছড়িয়ে দেয়। ছাত্রলীগের নেতার কাছে অবৈধ অস্ত্র এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

অস্ত্রটি কার এ প্রশ্নে তিনি বলেন, অস্ত্রটি যার কাছে থাকবে অবশ্যই সেটি তার। যেহেতু অয়নের বৈধ কোন অস্ত্র নেই সেহেতু নিশ্চিত সেটি অবৈধ। অস্ত্রটি এখন কোথায় আর কার কাছে রয়েছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবেন। জানা মতে সেটি এখনো তার কাছেই রয়েছে। প্রশাসন চাইলে অবৈধ অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারে। তবে ছবিটি এডিট করা দাবি করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ছবিটি ছড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা। পিস্তলসহ ছবিটি এডিট করা। অপরদিকে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা জানান, ছবিটি এডিট করা নয়। নিজেকে বাঁচাতে হয়তো বা অয়ন ভাই মিথ্যে বলছেন। অস্ত্রটি অয়নেরই। সেটি পদে থাকাকালীন সব সময় তার কাছেই থাকতো। সকলেই জানে এই পিস্তলটি অবৈধ। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের অস্ত্র রয়েছে এমন কথা আমার জানা নেই। এছাড়া অস্ত্র নিয়ে সে ছবি তুলেছে সেটিও আমি জানি না।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: