প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

সামাজিক দূরত্ব মানছে না মার্কিনীরা

   
প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, ২৬ মে ২০২০

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দিশেহারা বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাসীন দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ভয়াল এই ভাইরাসে সংক্রমনের ফলে মোট মৃত্যের সংখ্যা ১ লাখ ছুঁই ছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৫০৫ জন মৃত্যুবরণ করলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ৮০৫ জন। যা বিশ্বের একক কোনো দেশে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬ হাজার ২২৬ জন। যা পুরো বিশ্বে মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ। এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা। তবে তা সত্ত্বেও দেশটির অনেক নাগরিক সামাজিক দূরত্ব মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহান্তে(রোববার) দেশটির প্রচুর মানুষ বিভিন্ন স্পটে জড়ো হয়েছে। যারা সামাজিক দূরত্ব মানেনি। বেশির ভাগ লোককেই দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত গলফ ক্লাবে গলফ খেলতে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ৯৮ হাজার ২১৮ জন, যা ভিয়েতনাম ও কোরিয়া যুদ্ধ মিলিয়ে মোতায়েনকৃত মার্কিন সৈন্য সংখ্যার চেয়েও বেশি। রোববার সাপ্তাহিক ছুটির পর সোমবারও ছিলো যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটি। প্রতিবছর মে মাসের শেষ সোমবার ‘মেমোরিয়াল ডে’পালন করে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে গিয়ে যারা নিহত হয়েছে তাদের স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়। লকডাউনের মধ্যেও পরপর দুইদিন ছুটি পেয়ে মার্কিনীদের যেন আনন্দের বাধ ভেঙে গিয়েছিল। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, এই সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের জনগন যেন ভুলেই গেছে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা। ফ্লোরিডা, ম্যারিল্যান্ড, জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাষ্ট্রের সমুদ্র সৈকতগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো উল্লেখযোগ্য। অনেককেই দেখা গেছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন নিয়ম মানছে না এমন। সামাজিক দূরত্ব ছিলো না তাদের মাঝে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যান্য অনুসঙ্গগুলোও ছিলো উপেক্ষিত। কর্মকর্তার বারবারই সংক্রমণের আরেকটি ধাক্কা এড়ানোর কথা বললেও সাধারণের মাঝে তার লক্ষণ নেই। শুধু যে সমুদ্র সৈকতে ভিড় ছিল তা নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে গত শনিবার নর্থক্যারোলিনার ইলনের কার রেসিং সেন্টার এস স্পিডিওয়েতে এক সাথে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিলো। এক দর্শনার্থী বলেন, আমরা ঘরে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমি করোনাভাইরাসকে এখন আর ভয় করি না। দুই মাস পর এদিনই প্রথম কার রেসিং শুরু হয়েছে সেখানে।

স্পিডওয়ের মালিকদের একজন জ্যাসন টার্নার বলেন, আড়াই হাজারের মতো মানুষ এসেছিল। যদিও নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সেখানে উপস্থিত ছিলো ৪ হাজার মানুষ। জ্যাসন টার্নার বলেন, আমাদের কর্মীরা সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও কেউ কানে তোলেনি। তাছাড়া জনগনের তো অধিকার আছে তারা কি করবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার। ফ্লোরিডার ডেটোনা সৈকতে দেখা গেছে মানুষের প্রচুর ভিড়। শহরটির মেয়র ডেরিক হেনরি বলেন, আমাদের খুব কম পুলিশ আছে। এত বড় ভিড় তারা সামলাতে পারেনি। তিনি বলেন, দর্শনার্থীরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেনি। আমাদের কথা শোনেনি। ৩০০ থেকে ৫০০ লোকের জন্য একজন পুলিশ থাকলে কোন কিছু করার উপায় থাকে না। মিসৌরি অঙ্গরাষ্ট্রে কয়েকশ মানুষ একটি পুল পার্টিতে অংশ নিয়েছে। পাশ্বর্তী আরকানসাস অঙ্গরাষ্ট্রেও কয়েকদিন আগে একই ধরনের পার্টি হতে দেখা গেছে। এবং সেই পার্টি থেকে অনেকের মধ্যে করোনার সংক্রমণ হয়েছে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: