প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

সুশান্তের মৃত্যুকে ঘিরে তোপের মুখে রিয়া চক্রবর্তী!

   
প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ৮ আগস্ট ২০২০

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে। সুশান্তের মৃত্যুর পর প্রশ্ন তোলা শুরু হয় তিনি কেন সামনে আসছেন না রিয়া! জাতীয় টিভি চ্যানেলগুলি প্রচার করতে শুরু করে, ”কোথায় রিয়া” ইত্যাদি শিরোনাম। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলায় এমন খবর প্রকাশ পায়। সেখানে আরো বলা হয়, মৃত্যুর কিছুদিন পর থেকে রিয়ার দিকেই আঙ্গুল তোলা শুরু হয়, যে তিনিই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন সুশান্তকে।

অভিযোগ ওঠে সুশান্তের মৃত্যুর পর তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। একদিকে যখন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে রিয়া চক্রবর্তীকে একেবারেই দোষী বলে বিচার করে ফেলা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। তাকে ‘হত্যাকারী’, গোল্ড-ডিগার’, ‘উইচ’ বা ডাইনি, ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করা হতে থাকে, অন্যদিকে কেউ আবার তাকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয় কেউবা আবার রিয়াকে আত্মহত্যা করতে নির্দেশ দেয়। রিয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে কী ধরনের কথা লেখা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, তার ওপরে নজর রেখেছিলেন ভারতে বিবিসি-র নারী বিষয়ক এক সংবাদ দাতা।

তিনি বলেন, ‘রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শুধু সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবার একটা অভিযোগ দায়ের করেছে। তার দোষ আছে কি না, সেই বিচারে যাচ্ছি না। কিন্তু আদালতের বিচার তো শুরুই হয় নি, তদন্তই এখনও সবে আরম্ভ হয়েছে, কিন্তু ইতিমধ্যেই সুশান্ত সিং রাজপুতকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় তাকে রীতিমতো দোষী বানিয়ে ফেলেছে সামাজিক মাধ্যম এবং এক শ্রেণীর গণমাধ্যমও।’ তিনি বলেন, যেসব মন্তব্য করা হয়েছে তা থেকে ভারতীয় সমাজের একাংশের নারী বিদ্বেষ যেমন বেরিয়ে আসছে, তেমনই কারও মানসিক অবসাদ হলে যে কী কী তিনি করতে পারেন, তা নিয়ে জ্ঞানের অভাবও দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বলিউডি নাটক, যার ওপরে ভারতের গণমাধ্যম অনেকটাই নির্ভর করে, তাও রয়েছে এখানে। শুধু যে সাধারণ মানুষ এসব বলছেন, তা নয়। সুশান্ত সিংয়ের পরিবার, বন্ধুরা এবং কিছু রাজনৈতিক নেতাও এসব কথা বলছেন রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।’

সুশান্তের মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পরে তার বাবা বিহার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রিয়া এবং তার পরিবার এবং আরও কয়েকজনের নামে। অভিযোগ দুটি: এক, তারাই সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন। আর দুই, তিনি মারা যাওয়ার পরে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা সরিয়েছেন। বিহার পুলিশ আর মুম্বাই পুলিশের মধ্যে তদন্ত নিয়ে শুরু হয় অভূতপূর্ব টানাপড়েন। এরপরেই বিহার সরকার আবেদন করে যে এই মৃত্যুর তদন্ত করুক কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই। কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সায় দেয়ার পর তদন্ত ভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। সিবিআই বৃহস্পতিবারই (৬ আগস্ট) রিয়া এবং তার পরিবার ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা করে। এখন তারা জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শুরু করবে।

অন্যদিকে সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন তার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী, ওই অভিযোগের তদন্তে নেমে অর্থমন্ত্রীর অধীন তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট শুক্রবার রিয়া চক্রবর্তী এবং তার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বাইয়ে। কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, ‘মুম্বাই পুলিশ যেভাবে তদন্ত করেছিল, তাতে অনেক অস্বচ্ছতা ছিল, সেই রাগটাই গিয়ে পড়ছে রিয়া চক্রবর্তীর ওপরে। মুম্বাই পুলিশের তদন্তে প্রথম থেকেই যেন মনে হচ্ছিল যে কিছু একটা ধামাচাপা দিতে চাইছে তারা। অনেক অস্বচ্ছতা ছিল তাদের তদন্তে। এটা সাধারণ মানুষেরও মনে হয়েছে। সেই ক্রোধেরই শিকার হয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার দোষ ছিল কী না, সেটা তো আদালত বিচার করবে। সামাজিক মাধ্যমের সমস্যা এটাই, যে সেখানেই বিনা তদন্তে, বিনা বিচারে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে ফেলা যায়। কোথাও তো এর নজরদারি হয় না।’

কিন্তু যেভাবে রিয়া চক্রবর্তীকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়া হচ্ছে আর ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, সেটা কখনই মানা যায় না বলে মন্তব্য করেন জয়ন্ত নারায়ণ চ্যাটার্জী। তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমের এই সব পোস্ট ধরে ধরে ফৌজদারি আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ দায়ের হলে যারা এসব বলছেন, তাদের শাস্তি হবেই।’ ভারতে এর আগেও নানা ঘটনায়, ধর্ষিতা নারীদেরও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। বাদ যান নি দিল্লির নির্ভয়া নামে পরিচিত ধর্ষিত এবং নিহত ছাত্রীটিও। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা একদিকে যেমন নারী বিদ্বেষ, অন্যদিকে পশ্চিমা পোশাকে অভ্যস্ত, অভিনয় বা মডেলিং জগতের সঙ্গে যুক্ত নারীদের প্রতি ভারতীয় পুরুষদের একাংশের জিঘাংসা। রিয়া চক্রবর্তী দোষী কিনা, তা তো আদালত বিচার করবে, কিন্তু তার প্রতি সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমের একাংশের এই মনোভাব একেবারেই কাম্য নয়।’

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক সুদেষ্ণা রায় বলেন, ‘রিয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে যা হচ্ছে, তা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। ঠিকই, সুশান্তের পরিণতি অন্য অনেকের মতো আমাকেও খুবই ব্যথিত করেছে। কিন্তু রিয়ার সঙ্গে যা হচ্ছে, তাতে যদি ওর কিছু হয়ে যায়, তার দায়িত্ব কে নেবে? ধর্ষণের হুমকি দেওয়া তো পুরুষতান্ত্রিকতার কদর্য বহিঃপ্রকাশ।’ শুধু যে রিয়া চক্রবর্তীর এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে তা নয়। বাঙালি নারীদেরও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। বাঙালি নারীদের ডাইনি, তারা কালাযাদু করে ইত্যাদি বলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের কাছে বাঙালি নারীদের ট্রল করার জন্য গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশও। সুত্র: বিবিসি বাংলা

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: