প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সেতুর রেলিং ভেঙে বোনের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরি করছেন আ.লীগ নেতা!

   
প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, ২ ডিসেম্বর ২০২০

সরকারি সেতুর রেলিং রাতের আঁধারে ভেঙে বোনের বাড়ির রাস্তা তৈরির অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের আনাইতারা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ওরফে বাবু খানের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চরবিলসা দক্ষিণপাড়া গ্রামে। ব্রিজের হুইল গাইড ও রেলিং ভেঙে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা বানালেও বাবু খানের ভয়ে জমির মালিকসহ কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে চরবিলসা গ্রামের খালের ওপর পূর্ব-পশ্চিমে ২০ মিটার দৈর্ঘ্যে একটি ফুট ব্রিজ নির্মাণ করে স্থানীয় এলজিইডি মির্জাপুর অফিস। ওই ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ার পর গ্রামের মানুষ সহজে বারিন্দা বাজারসহ উপজেলা সদরে নির্বিঘ্নে চলাচল করে।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বাবু খান তার বোনের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা সহজ করতে খালের ওপর নির্মিত ব্রিজের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১০ ফুট হুইল গাইড ও রেলিং ভেঙে ফেলেন। এ কাজে সহায়তা করেন তার ভগ্নিপতি রাজাপুর বাহারাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মঞ্জুর রহমান মজনু। পরে তারা চান মিয়া নামের এক ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং নির্মাণকাজের ব্যয়ভার বহন করছেন।

কেউ প্রতিবাদ করলে বাবু খান উল্টো তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে গ্রামবাসী জানান। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জমির মালিক চান মিয়ার ছেলে আব্দুল হক ও ফজলুল হক বলেন, আমাদের না জানিয়েই আমাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে। বাধা দিলে তারা মানছেন না।

আনাইতার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার লুৎফর রহমান জানান, ব্রিজ ভেঙে রাস্তা করার খবর পেয়ে বাধা দিতে গেলে বাবু খান তা কর্নপাত না করেই কাজ করছেন।

অভিযুক্ত বাবু খান বলেন, গ্রামবাসীর স্বার্থে রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। এ কাজের সাথে আমি জড়িত নই।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, সরজমিন পরিদর্শন করে ব্রিজের হুইল গাইড ও রেলিং ভাঙার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: