মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিডি২৪লাইভকে একান্ত সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মোস্তাহিদল হক

‘দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে ই-কমার্স’

   
প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, ২৯ অক্টোবর ২০১৯

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক। দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বোকারেস ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি এসিসিএ-এর সদস্যও। ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের স্পটস ডিরেকটর ডটকমে চাকরির মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। ২০১১ সালে দেশে ফিরে যোগদান করেন হোদা ভাসি অ্যান্ড কো. এ অডিট অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল কনসালটেড হিসেবে। ২০১৪ সালে দারাজ বাংলাদেশে সিএফও হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৭ সালের জুনে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পান সৈয়দ মোস্তাহিদল হক। সম্প্রতি তিনি দেশের ই-কমার্স সেক্টরের বর্তমান-ভবিষ্যৎ ও আগামীর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বিডি২৪লাইভ ডটকমের সঙ্গে একান্ত আলাপে মিলিত হন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিডি২৪লাইভ ডটমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. ইলিয়াস।

বিডি২৪লাইভ: বাংলাদেশে ই-কমার্সে সম্ভাবনা কতটুকু? এ নিয়ে দারাজ বাংলাদেশের ভাবনা কি?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ই-শপিং জনপ্রিয় হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। বাংলাদেশেও এর বাজার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে। ই-কমার্সে এখন ৬০ লাখ গ্রাহক আছে। এটাকে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে ৫ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে আমাদের। এতে শুধু দারাজ না সমস্ত ই-কমার্স সেক্টর লাভবান হবে। কাস্টমারকে যখন দারাজ নিয়ে আসে বা ই-কমার্স শিখায় সে তখন কিন্তু শুধু দারাজের সাথে যুক্ত থাকে না, অন্যান্য সাইটে চেষ্টা করে।

বিডি২৪লাইভ: দারাজ ছাড়াও বহু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে রয়েছে। তাহলে মানুষ দারাজ থেকে কেন নিবে?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: আমাদের প্রায় ৭০ লাখ প্রোডাক্ট আছে। আমাদের মিশন হচ্ছে দারাজ হবে সবার জন্য। ছোট প্রোডাক্ট থেকে গাড়ি যেকোনো পণ্য দারাজে পাবে। মার্কেটে প্রোডাক্টের যেই দাম তার থেকে বেস্ট দেয়ার চেষ্টা করি। সেরা দামে সেরা পণ্য কাস্টমারকে বুঝিয়ে দেয় দারাজ।

বিডি২৪লাইভ: মানুষকে ই-কমার্সের সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর জন্য আপনারা কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: লিস্টিং বাড়ানোর টার্গেট থাকে। সেল বাড়ানোর টার্গেট থাকে। তার সঙ্গে আমাদের এই চেষ্টাও ছিল কিভাবে মানুষকে আরও বেশি ই-কমার্সের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। মানুষজন ই-কর্মাসকে চিনবে, আস্থা রাখবে, কেনাকাটা করবে এটাও দারাজের একটা স্বপ্ন। মানুষকে এনগেজড করার জন্য আমরা সব সময়ই কিছু না কিছু অফার রাখি, ফ্রি উপহার রাখি, ডিসকাউন্ট, ফ্রি শিপমেন্ট থাকে, ভাউচার থাকে। এসব দেয়ার কারণ হচ্ছে মানুষ যেন ই-কর্মাসের উপর থেকে তাদের আস্থা হারিয়ে না ফেলে।

বিডি২৪লাইভ: এ পর্যন্ত দারাজের অর্জন কি কি?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: অর্জন অনেক। বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ভাল একটা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। আমরা ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নই। ঢাকার বাইরে আমাদের গ্রোথটা বেশি। আমাদের বড় একটা অর্ডার আসছে গ্রাম বা থানা পর্যায় থেকে। ওখান থেকে ভাল সারা পাচ্ছি। শুরুতে ডেলিভারি সমস্যা ছিল কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি।

বিডি২৪লাইভ: দারাজ নিয়ে গ্রাহকদের অনেক অভিযোগ। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী? অভিযোগগুলো কি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: সব ধরনের অভিযোগ খুব গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখি। আমাদের একটি দল সর্বদা গ্রাহকদের অভিযোগ শুনছেন এবং সমাধান দিচ্ছে। সবসময় যে অভিযোগগুলো আসে তা ০.৫ শতাংশের নিচে। ই-কমার্সের যত পণ্য বিক্রি হয় তার ৮০ শতাংশ দারাজের। গ্রাহকদের প্রতিটি অভিযোগ আমাদের চিফ কমার্সিয়াল অফিসার এবং চিফ অপারেশনাল অফিসার পর্যন্ত পৌঁছায়। যদি সেখানেও সমাধান না হয় তাহলে আমি নিজেও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কাজ করি। অভিযোগের মাত্রা কি ভাবে আরও কমানো যায় সে চেষ্টা করছি। আমরা এখন একটা বিষয় চালু করেছি কাস্টমারদের সাথে সেলারদের সরাসরি যোগাযোগর ব্যবস্থা। যখন কাস্টমার ছবি দেখে অর্ডার করে সেখানে বিস্তারিত লেখা থাকে না তখন সে ইচ্ছে করলে সেলারদের সাথে বিস্তারিত জেনে পণ্য ক্রয় করেতে পারে। তাহলে তাদের ঠকার কোন সম্ভবনা থাকে না।

বিডি২৪লাইভ: ই-কমার্স খাতকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: ই-কমার্স খাতকে এগিয়ে নেওয়ায় জন্য দুটি কাজ করতে হবে। কাস্টমার এবং সেলার এডুকেশন। এই খাতকে এগিয়ে নেয়ায় জন্য কাস্টমার এডুকেশন হচ্ছে বড় ফ্যাক্ট। শুরুতে সেলাররা ততটা গুরুত্ব দিত না, কিন্তু এখন সেটা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি। ওখান থেকে এগিয়ে আসতে পেরেছি। সবার এডুকেশন এবং কাস্টমার লোকেশন দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।

বিডি২৪লাইভ: ই-কমার্স ব্যবসায় ঝুঁকি কতটা?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: আমি ঝুঁকি বলব না, আমি বলব ই-কমার্স আমাদের সোস্যাল সোসাইটি বা ইকোনমি যে সমস্যা আছে সেই জিনিসগুলো সমাধান করবে। এখন দারাজের সাথে কাজ করছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এটা যত বড় হবে ততই ক্রেতাদের জন্য ভালো হবে।

বিডি২৪লাইভ: আগামী ৫-১০ বছর পর ই-কমার্স সেক্টর কেমন হবে? অর্থাৎ এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ কী?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: ই-কমার্স দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের অনেক সমস্যা আছে, এগুলো হয়তো সমাধান হয়ে যাবে। বড় একটা জনশক্তি ই-কমার্সে যুক্ত হবে। যেখানে কর্ম দক্ষতা তৈরি হবে। আমাদের যেসকল কর্মী রয়েছে তারা বেশির ভাগ ইয়াং তারা হয়তো লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করছে। যাদের চাকরি না হয় এই কাজ করছে বা নিজেরা ব্যবসা করছে।

বিডি২৪লাইভ: দারাজের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে পাঁচ কোটি গ্রাহককে দারাজের সাথে যুক্ত করা। ধীরে ধীর আমরা সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছি।

বিডি২৪লাইভ: ব্যস্ততার মাঝে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক: আপনাকে ধন্যবাদ।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: