প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

স্টেপ প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন

   
প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, ২ জুন ২০২০

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সদ্য শেষ হওয়া স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ)-এর দুর্নীতি তদন্তে তিন সদস্যের উচ্চতর কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ এক আদেশে অতিরিক্ত সচিব মো. বিলাল হোসেনকে আহ্বায়ক, যগ্ম সচিব মো. মনজুর হাসান ভূঁইয়া ও উপসচিব মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে সদস্য করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কয়েক কর্মকর্তার একটি চক্র নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনাকাটার নামে অর্থ লোপাট করেছেন। অপকর্ম সহজ করতে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় নামসর্বস্ব কম্পানি। পাশাপাশি প্রকল্পভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা খাতের প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে ওই কম্পানিতে পরিচালক হিসেবে নেয়া হয়। অথচ ওই পরিচালকের প্রতিষ্ঠান স্টেপ প্রকল্প থেকেই নয় কোটি টাকা মঞ্জুরী পেয়েছেন।

সূত্র জানায়, ওইসব অসৎ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট পার্বত্য অঞ্চলে রিসোর্ট তৈরির জন্য শত একর জমি নিয়েছেন। জমি কেনার অর্থের উৎস্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

জানা যায়, স্টেপ প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে নয় কোটি টাকা করে মঞ্জুরী দেওয়া হয়। এরপর এই টাকা ব্যয় নিয়ে অভিযোগ উঠলে দ্বিতীয় পর্যায়ে তিন কোটি টাকা করে দেওয়া হয়। এই টাকায় বিভাগভিত্তিক ল্যাবরেটরি স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ একাধিক কাজ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে বেশিরভাগ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট স্টেপ প্রকল্পের একটি চক্রের যোগসাজশে নামমাত্র ল্যাবরেটরি স্থাপন করে টাকা ছাড় করে নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এই চক্রের মাধ্যমে কাজ করেনি তাদের বিল আটকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যারা সমঝোতায় কেনাকাটা করতে চায়নি, তাদের বরাদ্দ ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। আবার রফা না হওয়ায় প্রথমে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহের কাজ দেয়া হয়নি। রফা হওয়ার পর আগে অযোগ্য হলেও পরে একই কাগজপত্রে কাজ দেয়া হয়েছে। বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর ক্ষেত্রেও আছে নানা অভিযোগ।

অভিযোগ উঠেছে- প্রকল্পের চক্রভুক্ত কর্মকর্তারা অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর কাছ থেকে ল্যাবরেটরির মালামাল কিনতে বলে দিতেন। কথামতো কাজ না করলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সব নিয়মকানুন মেনে মালামাল কিনলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে দেয়া হতো।

আবার কোনো প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেটভুক্ত সরবরাহকারীর থেকে পণ্য নিতে রাজি হলে সেই প্রতিষ্ঠানের দরপত্রের ডকুমেন্টস তৈরি করে দিত ওই সিন্ডিকেট। ফলে উন্মুক্ত দরপত্রেও সাধারণ দরদাতারা কাজ পেত না। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিবের কাছে এমন বেশকিছু অভিযোগ পড়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, গত ডিসেম্বরে এ প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে। পিসিআর (প্রকল্প সমাপনী প্রতিবেদন) শেষ না করেই প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দু’বার অন্যত্র বদলি হলেও তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বদলির আদেশের পর ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তবে যদি প্রকল্পের কোনো কাজে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকেন, তবে তার পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: