প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

স্ট্রোকে মারা গেছেন বলে প্রচার, জানাজার পূর্বে গলায় মিলল দাগ

   
প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

শ্বশুরবাড়ির পরিবার দাবি করে- বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে তাসলিমা আক্তার (২৮) স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে জানাজার কিছু সময় পূর্বে তাসলিমার গলায় দাগ দেখতে পায় তার বাবার বাড়ির লোকেরা। মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শুক্রবার স্বামীর বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে তাসলিমার সঙ্গে অন্তত সাত বছর পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরপুবাইল (চকপাড়া) গ্রামের অলুম উদ্দিনের ছেলে সোহেল মিয়ার (৩০) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে তাসলিমার বাবার বাড়িতে খবর পাঠানো হয় তিনি (তাসলিমা) খুব অসুস্থ। দ্রুত পরিবারের লোকজন না গেলে জীবিত অবস্থায় দেখতে পাবে না। ওই অবস্থায় রাতেই পারিবারের লোকজন মেয়ের বাড়িতে যায়। ততক্ষণে তাসলিমা মারা গেছেন বলে জানা যায়। এলাকায় প্রচার চালানো হয় স্ট্রোক করে মারা গেছেন তাসলিমা। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে সকল প্রস্তুতি শুরু করা হয়। কবর খুঁড়ে, বাঁশ কেটে সব সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ১০টার দিকে তাসলিমার মরদেহ গোসল করানোর সময় চাচী বেদেনা খাতুন দেখতে পান তাসলিমার গলায় দাগের চিহ্ন। ওই সময় তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকেরা দাগ দেখে ফেলায় লাশ রেখে সরে পরেন শ্বাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে।

নিহতের ভাই মুস্তাকীম মিয়া বলেন, ‘গত ৪ দিন আগেও তার বাড়িতে যায়। আমার বোনকে দুই লাখ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল সোহেল।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার বোনকে মেরে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। লাশ ভালোভাবে দেখতেও দেওয়া হয়নি। কিন্তু লাশ ধোয়ানোর আগে তারা গলায় দাগ দেখতে পায়।

নিহতের মা বিলকিছ আক্তার বলেন, ‘আমার মা রে মাইরা ফালছে। আমি এর বিচার চাই।’

নিহতের শ্বাশুড়ি নুরুন নাহার বলেন, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিলো না। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার ছেলে ডাকতে শুরু করলেও তাসলিমার ঘরের দরজা না খোলায় দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে তাসলিমা।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আটক করা হয় নিহতের শ্বাশুড়ি নুরুন নাহারকে। সুরতহালে নিহতের গলায় ও পেটে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে গৃহবধূকে হত্যা হয়েছে। পরে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করার জন্য ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা নিহতের শ্বাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: