প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

স্ত্রীকে বারবার ধর্ষণচেষ্টা, শহীদ মিনারে এসে অসহায় স্বামীর হাউমাউ কান্না

   
প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ২৮ নভেম্বর ২০২০

সুনামগঞ্জের শাল্লায় দিনমজুর পরিবারের এক গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পরিবারের এক বখাটে। ওই নারীর পরিবারের লোকজন থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা হিসেবে নেয়নি। অবশেষে বাধ্য হয়ে বিচারের দাবিতে আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের শহীদ মিনারে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধন করেছেন এক অসহায় দিনমজুর স্বামী। তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা। মানববন্ধনে ধর্ষণচেষ্টার বিচার চেয়ে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন দিনমজুর। এ সময় তার স্ত্রী, বৃদ্ধা মা ও দুই শিশুসন্তান সঙ্গে ছিলেন।

তাদের বুকফাটা কান্নায় শহীদ মিনারে উপস্থিত সবার চোখে জল নামে। শনিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারী নির্যাতনকারী বখাটে ও সহযোগীদের বিচার চায় অসহায় পরিবারটি।

মানববন্ধনে দিনমজুর বলেন, উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের মধুদাসের ছেলে প্রজেশ দাস আমার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। বাড়ি থেকে বের হলেই স্ত্রীকে অশ্লীল কথাবার্তা বলে প্রজেশ দাস। গত বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে মদ খেয়ে আমার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে সে। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী শাল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। গত শনিবার (২১ নভেম্বর) রাতে আবারও ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রজেশ। এ সময় আমার স্ত্রী ও বাবা-মা জেগে চিৎকার শুরু করলে প্রজেশ দাস পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রোববার (২২ নভেম্বর) আবারও থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।

দিনমজুর আরও বলেন, সর্বশেষ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে আসেন শাল্লা থানা পুলিশের এসআই সেলিম মিয়া। তিনি তদন্তে এসে আমাকে আপসের কথা বলে যান। আমি আপস না মেনে বিচার চাই। পরে ইউপি সদস্যকে নিয়ে থানায় যাই মামলা করতে। সেখানে ওসির সামনে আমাদের গালিগালাজ করেন এসআই সেলিম মিয়া। মামলা না নিয়ে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নেয়া হয়নি। তবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আরেকজন অফিসারকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি। এর আগেই সুনামগঞ্জে গিয়ে মানববন্ধন করেছেন ওই দিনমজুর।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: