প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

স্বামীর ছবি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে স্ত্রী

১২ জুন ২০১৯, ৮:৫৪:৪৬

ছবি: প্রতিনিধি

মোঃ জুয়েল রানা,
কুড়িগ্রাম থেকে:
মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় এর পর প্রেম আর তারপর পরিণতি। ৫ বছর পূর্বে মল্লিকার জীবনে এর সবই ঘটে যায়। কুড়িগ্রামের অজ পাড়াগায়ের মেয়ে মল্লিকা বেগমের সাথে আব্দুল হাকিম এর ২০১৫ সালের ১৬ জুন কুড়িগ্রাম কাজী অফিসে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে নিকাহনামা রেজিস্ট্রি বিবাহ সম্পাদন হয়।

সে সময় আব্দুল হাকিম পিতা মৃত আবু সায়েদ পূর্ব থানা পাড়া লালমনিরহাট সদর উল্লেখ করলেও বর্তমানে সে ঠিকানা ভুয়া বলে জানা গেছে। গত ৩ রমজান থেকে আব্দুল হাকিম এর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে মল্লিকা লাপাত্তা স্বামীর খোঁজে দ্বারে দ্বারে ছুটছে।

প্রত্যেকটা মেয়ের যেমন স্বপ্ন থাকে স্বামী সংসার নিয়ে সুখে থাকা, তেমনি স্বপ্ন নিয়ে মল্লিকা স্বামীর হাত ধরে ঢাকায় পাড়ি জমায়। বিয়ের ১ মাসের মধ্যে মল্লিকাকে ঢাকায় নিয়ে যায় হাকিম। কঠিন কষ্টকে জয় করে গ্রামের কিশোরী বধু মল্লিকা সেখানে মিরপুর দোয়ারীপাড়া ইভেন্স লিমিটেড নামে একটি গামেন্টস এ চাকুরি করে আসছিল দু’জনই।

প্রতি বছর ঈদে কুড়িগ্রামে ঈদ করতে আসলেও কোনদিনই শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া হয়নি মল্লিকার। বিভিন্ন ধরনের অজুহাতে স্বামী ছল চাতুরি করে আসছিল। এ বার ৩ রমজানে ঢাকায় গার্মেন্টস এর বেতন নিয়ে আব্দুল হাকিম বেশ আগে ভাগেই মল্লিকার সমস্ত জমানো টাকা আর কানের দুল নিয়ে চলে যায়। এর পর দিন ফোন করে বলে তার মা অসুস্থ থাকায় সে চলে এসেছে আর তখন মল্লিকাকে ঠিকানা বলে তার মা ইসলামপুর, ঢাকায় থাকে। তখন মল্লিকা শ্বাশুড়িকে দেখতে সেখানে যেতে চাইলে আব্দুল হাকিম বলে পরবর্তীতে নিয়ে যাবে। এরপর থেকে আব্দুল হাকিম এর ০১৭৫৮….৭০ মোবাইল নম্বর এ বারবার যোগাযোগ করলেও তা বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ ৫ বছর এর সংসার জীবনে মল্লিকার একটি সন্তান হলেও তা মারা যায়। মল্লিকা জানায় এই সময়ের মধ্যে কখনও তার মনে হয়নি যে স্বামী তার সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। তাকে ছেড়ে এভাবে চলে যেতে পারে। মল্লিকা আক্তারের পিতা মোঃ কবির উদ্দিন একজন বর্গা চাষী অন্যের জমি চাষ করে কোন রকমে সংসার চালান। দুই ছেলে ৩ মেয়ের সংসারে মল্লিকা এখন বাড়তি বোঝা। মল্লিকা ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে এসে স্বামীর নিকাহনামা অনুযায়ী পুরাতন থানাপাড়া লালমনিরহাট এ খোঁজ করে জানতে পারে তা ভুয়া ঠিকানা। স্বামীর এ রকম আত্মগোপনে চলে যাওয়া কে এখনও প্রতারণা হিসেবে মানতেই পারছে না মল্লিকা। স্বামীর ছবি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে স্বামীর ফিরে আসার প্রতিক্ষায়।

কুড়িগ্রাম ভেলাকোপা ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, মল্লিকার বিয়ের সময় যদি হাকিম এর বাড়ি ঘরসহ পিতা মাতা আত্মীয় স্বজন এর খোঁজ করা হতো তাহলে হয়ত এই মেয়েটি ৫ বছর পরে এসে এমন প্রতারণার শিকার হতো না।

বিডি২৪লাইভ/এজে

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: