প্রচ্ছদ / খোলা কলাম / বিস্তারিত

কামরুল হাসান

লেখক, সাংবাদিক

স্যোশাল মিডিয়াতে আমরা গালা-গালি করি কেন ?

   
প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, ১০ মে ২০২০

সো’শ্যাল মি’ডিয়ার মাধ্যমে তরুণরা সমাজে ভালো-মন্দ দু’ধরনের ভূমিকাই রাখছে৷ তবে দু’শ্চিন্তার বিষয় হলো, দিনের খুব বড় একটা সময় এই মাধ্যমে ব্যস্ত থাকায় তরুণদের অল’সতা বাড়ছে৷ একটি প্রবাদ বাক্যে বলা হয়েছে, ‘অ’লস ম’স্তিষ্ক শ’য়তানের কারখানা’। অর্থাৎ কর্মহীন বেকার মানুষই বেশি করে শয়’তানের খ’প্পরে পড়ে। কারণ সাধারণত ওই শ্রেণীর মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পরগাছার মতো অন্যের ঘাড়ে চেপে বসে।

এবারে আসি মুল কথায়, অলসতা সেতো না হয় শয়’তানের কারখানার মধ্যে পরলো। কিন্তু এই অলস মস্তিস্ক বি’কৃত মা’নুসিকতার পরিচয় নিয়মিত নিয়ে আসছে সে দায়ভার কে নিবে ? সমাজের একটা বড় অংশ স্যোশাল মিডিয়াতে তাদের বাহ্যিক বলুন আর অন্তরগত বলুন সেই রুপ প্রকাশ করছে। বিষয়টা খুলেই বলি, বর্তমান সময় স্যো’শাল মিডিয়া আমাদের জন্য অত্যান্ত গুরুত্ব বহন করে। আমরা একই সাথে বিনোদন, সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগের জন্য এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে থাকি। বিশেষ করে সংবাদের জন্য ফেসবুক এখন একটি আদর্শ জায়গা বলা যেতে পারে। এ কারনে সবগুলো পত্রিকা, পোর্টাল, টিভি সহ অন্যান্য মিডিয়ার রয়েছে বড় বড় ফ্যান পেইজ। সেখানে নিয়মিত তারা সংবাদ শেয়ার করে। পাঠকদের ওয়ালে সেইসব সংবাদ পৌছে গেলে পছন্দ হলে সেখানে ক্লিক করে সংবাদের বিস্তারিত পরে। এছাড়া বড় বড় আর্টিস্ট, খেলোয়ার, আইজীবি, এমপি, মন্ত্রী সহ অনেকেরই বড় বড় ফ্যান পেইজ আছে। সেখানে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পোস্ট করেন। ভিডিও আপলোড করেন।

স্যোশাল মিডিয়াতে আমরা গালা-গালি করি কেন ?

স্যোশাল মিডিয়াতে বিভিন্ন পোষ্টে, ছবিতে, ভিডিওতে মানুষ গালা’গালি করে কেন সেই প্রশ্নে উত্তর খোঁজার আগে আমরা আগে জানি গালাগালি কেন দেয়। স্যোশাল মিডিয়াতে মানুষের গালি দেওয়ার বেশ কয়েকটি কারন আছে। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য:

খুব রাগ আর ক্রোধের কারনে গালি দেন। মূর্খ মানুষ গালি দেয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে, জ্ঞানের অভাব হলে মানুষ গালি দেয়। প্রকাশ্যে পেরে উঠতে না পেরে স্যোশাল মিডিয়াতে গালি দেয়। অন্যকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য। সামনে কেউ উপরে উঠে যাচ্ছে সেটার ক্রোধে গালি দিয়ে তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা। কোন বিষয়বস্তু অপছন্দ হলে । বিকৃত মানুষিকতা।

গালি দেওয়া মানুষগুলো প্রকৃতপক্ষে সমাজেও একইরকম প্রভাব ফেলে। তার বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে গালাগালির মাধ্যমে। কারনে অকারনেই এরা গালির শব্দ ব্যবহার করে থাকে। গালি নিয়ে একটা পৈশাচিক আনন্দ গ্রহনের চেষ্টা করে।

এবারে আশি আমরা আসলে গালাগালি কেন করি। ধরুন কোন একটি নিউজ পোর্টাল সংবাদ করেছে পৃথিবীর কোথাও কোন এক হাসপাতালে আগুন লেগেছে। অনলাইনের স্বভাবসতই হেডলাইনটা করেছে, ‘করোনা হাসপাতালে আগুন, নিহত ১’। নিউজে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তাতে স্পস্টই হয়ত দেখা গেছে এটা বাংলাদেশের নয়। নিউজটি শেয়ার দেওয়া মাত্রই কমেন্টস বক্সে দেখায় যায় গালাগালির সমারোহ। তাদের গালাগালির কারন হেডলাইনে কেন দেশের কথা উল্লেখ করা হয়নি। আবার অন্য আরেকজনের কারন বাংলাদেশ বাদ দিয়া কেন বিদেশি সংবাদ প্রকাশ করছি। এরকম হাজারো উধারহরণ দেখা যায়।

বাংলাদেশে স্যোশাল মিডিয়ায় গালাগালির কারণে অনেক প্রতিভাবান ব্যাক্তিও কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। আবার অনেকে নিজের কাজ থেকে দুরে সরে গেছেন। বাংলাদেশের দুই শ্রেনীর মানুষ আছে। যাদের আপনি কখনই পক্ষে যেতে পারবেননা। আপনি যে কাজই করুননা কেন সেটার বিপক্ষে মানুষ থাকবেই। এবং আপনাকে গালাগালি শুনতেই হবে। বাংলাদেশে গালাগালির আরেকটি কারন হলো এদেশের বেশিরভাগ মানুষই ধর্মভিরু। কিন্তু যখন গালাগালি করে তখন ধর্মের দোহাই দিয়াই গালাগালি করে।

গা’লাগা’লি নিয়ে ইসলাম কি বলে: ইস’লামে অন্যকে গালি দেয়া সম্পূর্ণ হা’রাম। যেকোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেয়ার অনুমতি নেই। হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।(সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৮)

যার মধ্যে চারটি অভ্যাস আছে তাকে হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে। এগুলোর কোনো একটি পাওয়া গেলেও সে মুনাফিক হিসেবে ধর্তব্য হবে। হাদিসের আলোকে সেগুলো হলো, ‘যখন তাকে বিশ্বাস করা হয়, সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। কথা বললে, মিথ্যা বলে। অঙ্গিকার করলে ভঙ্গ করে এবং বিবাদ-বিতর্কে উপনীত হলে অন্যায় পথ অবলম্বন করে। (বুখারি, হাদিস নং : ৩৪; মুসলিম, হাদিস নং : ১০৬)

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: