ফ্রিতে ব্রেকিং নিউজ এ্যালার্ট

হঠাৎ বদলে গেল দৃশ্যপট

                       
প্রকাশিত: ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, ৯ মার্চ, ২০২০

পিয়াস সরকার: সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। কর্মব্যস্ত বিকালে হঠাৎ খবর দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গণমাধ্যম-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশের পর বদলে যেতে যাতে দৃশ্যপট। চিরচেনা ব্যবস্থার মধ্যেই অনেকটা ছন্দপতন। ঘরের বাইরে থাকা মানুষজন ফেস মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা সুরক্ষা পণ্য কিনতে ভিড় জমান দোকানে। চিরচেনা গণপরিবহনেও বদলে যায় দৃশ্য। সবার চোখে মুখে আতঙ্ক। বাড়তি সতর্কতা। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাটেও দেখা গেছে একই আলোচনা। নানা তৎপরতা। মানুষজন অনেককে মুখে মাস্ক পড়ে হাঁটতে দেখা যায়। অফিস থেকে আবাসস্থলে ফিরতে অনেকের মুখেই দেখা যায় ফেস মাস্ক।

ফুটপাতের পাশে মাস্কের দোকানগুলোতে দেখা যায় ভিড়। পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে প্রায় ৮ জন ভ্রাম্যমান দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ৫ জনের দোকানে থাকা মাস্ক বিক্রি শেষ হয়েছে। মো. রাকিব নামে এক মাস্ক বিক্রেতা বলেন, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বিক্রি করেছি প্রায় ২৩ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে থাকে ১২টি) মাস্ক। তিনি আরো বলেন, মাস্কের অর্ডার দিয়েছি সন্ধ্যায় আবার মাস্ক দিয়ে যাবে। আরেক দোকানদান কাওসার মিয়া বলেন, হঠাৎ দেখি সবাই মাস্ক কিনছেন। হুড়োহুড়ি করে নিয়ে গেলেন সবাই। এরপরেই জানতে পারি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। কিছু সময়ের মধ্যেই ২শ’ পিচ মাস্ক বিক্রি শেষ। বাড়িতে রাখা ছিলো ১শ’ মাস্ক সেটা নিয়ে আসার পর সেটাও বিক্রি হয়ে যায়।

মাস্ক বিক্রি বৃদ্ধির সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে মাস্কের মূল্যও। বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে বৃদ্ধি পায় মাস্কের মূল্য। আর গতকাল করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়বার পর থেকে এটি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেস মাস্ক যেটি আগে ছিলো ২৫ টাকা। এগুলো এখন বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। কিন্তু গতকাল দেখা যায় ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাপড়ের তৈরি মাস্ক যেটি আগে ৫ টাকা, পরে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয় সেটি গতকাল বিক্রি করতে দেখা যায় ৪০ টাকায়।

বেসরকারি চাকরীজীবি রাশেদ রহমানের মুখে মাস্ক। তিনি ৩ ধরণের মাস্ক কিনলেন ২টি করে। বলেন, জীবনের ভয় কার না আছে। সচেতন হলে ক্ষতিতো নেই। কয়েকটা মাস্ক কিনলাম পরিবারের জন্য। পান্থপথের একটি শপিং মলে অফিস ছুটির পর অবস্থান করে দেখা যায় সেখানে প্রবেশের চেয়ে বেশি মানুষ বের হয়ে আসছেন। বেশ কয়েকটি দোকানে দেখা যায় সামনে রাখা আছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কোন দোকানের সামরে রাখা হয়েছে হ্যাক্সিসল। দোকানের কর্মচারী ছাড়াও ক্রেতাদের হাত পরিষ্কার করে ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়াও মার্কেটের সিড়ি, রাস্তার পাশে পান সিগারেটের দোকান ও মার্কেট এলাকার পাশে থাকা দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকাতেও দেখা যায় লোকসমাগম কম।

কাওরানবাজারে ওয়াসা ভবনের সামনে অপক্ষমান একটি বাসের ভিতর দেখা যায় সেখানে ছিলেন ১৪ জন যাত্রী। যাদের ৬ জনের মুখে মাস্ক। আর ২ জনের হাতে। এছাড়াও যানজটে আটকে থাকা একটি দোতলা বাসের ওপরে দেখা যায়, এক-তৃতীয়াংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক।

এদিকে করোনা রোগী শনাক্তের খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন দপ্তর ও অফিসে কর্মীদের হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার বা থার্মাল মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। গণমাধ্যমসহ কয়েকটি কার্যালয় আছে এমন একটি ভবনে দেখা যায় যারাই প্রবেশ করছেন তাদের থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। কারও গায়ে জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে। ওই ভবনের কর্মীরা জানিয়েছেন, করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই মুহুর্তে সবারই মাস্ক পড়ার প্রয়োজন নেই। তবে ধুলা ময়লা থেকে বাঁচতে ব্যবহার করতে পারে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম পূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে করোনা রোগী সনাক্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে নানা বিষয় পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ করোনা থেকে সুরক্ষার নানা বিষয় শেয়ার করেছেন। বিমানবন্দর দিয়ে দেশে করোনা প্রবেশ করায় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সূত্র: মানবজমিন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


পাঠকের মন্তব্য:

© স্বত্ব বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭

ফোন: ০৯৬১১৬৭৭১৯০, ০৯৬১১৬৭৭১৯১
ইমেইল: info@bd24live.com