প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হত্যার পর তিন দিন তোশকে মুড়িয়ে রাখেন স্বামীর লাশ

   
প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যার পর লা’শ এসিডে ঝলসে দেন তিনি। এরপর ঝলসানো লাশটি তোশক দিয়ে পেঁচিয়ে বস্তায় ভরে বিছানায় চাদর মুড়িয়ে রেখেছিলেন। গুম করতে না পেরে ফ্ল্যাটের ওই লা’শের সঙ্গেই তিন দিন কাটান সামিরা। পরে স্বামীর লা’শ রেখেই ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান তিনি। লা’শে পচন ধরায় দুর্গন্ধে আট দিন পর টের পান অন্য ফ্ল্যাটের ভাড়টিয়ারা। খবর পেয়ে পুলিশ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে বিকৃত লা’শটি উদ্ধার করে। মর্মন্তুদ এই হ’ত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার প্রশিকা মোড়ের তিনতলা একটি বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে।

ফ্ল্যাটে থাকা ব্যক্তির স্বজনদের দাবি ছিল, লা’শটি আবদুর রহমানের (৪৫)। আবদুর রহমান পাশের গাজীপুর ইউনিয়নের গোতারবাজার গ্রামের নছিম উদ্দিনের ছেলে। আবদুর রহমান তাঁর চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। সামিরা আক্তার (২৬) পাশের চকপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে। গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামিরাকে গ্রে’প্তার করেন র‌্যাব সদস্যরা। এ সময় গ্রে’প্তার করা হয় সামিরার বাবা আলী হোসেনকেও (৫৫)। র‌্যাব-১ এর গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জমি ব্যবসায়ী স্বামী আবদুর রহমানকে নির্মমভাবে হ’ত্যার পুরো ঘটনা র‌্যাবকে জানিয়েছেন সামিরা। তবে এ সময় তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা কাজ করেনি। জানা যায়, তিন তলা ভবনের দোতলায় তালাবদ্ধ একটি ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। মানুষ পচা গন্ধ। সময় যত বাড়তে থাকে, বিশ্রী গন্ধের তীব্রতা ততই বাড়তে থাকে। আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিল ওই দুর্গন্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুরো শ’রীর ঝলসানো, গলা কাটা অবস্থায় বিছানার চাদরে মোড়ানো অর্ধগলিত লা’শটি উদ্ধার করে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মজনু মিয়ার আবাসিক ভবন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। হ’ত্যার শিকার আবদুর রহমান শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের নছিম উদ্দিনের ছেলে। গত ১৪ জানুয়ারি সামিরা তার মাকে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার পূর্ব পাশের একটি ফ্ল্যাট ৯ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। তার দ্বিতীয় স্বামী রহমানকেও নিয়ে আসেন বাসায়।

র‌্যাব জানায়, সামিরাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজেই হ’ত্যার কথা স্বীকার করেছেন। র‌্যাবকে জানান, এ পর্যন্ত রহমান তার আটজন বন্ধুর হাতে তাকে তুলে দিয়ে যৌ’ন নির্যাতন করিয়েছে। সংসার ত্যাগ করতে চাইলেও তাকে সেটি করতে দেয়নি। অত্যাচার থেকে রক্ষার জন্য স্বামীকে তিনি হ’ত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: