প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

হাজী সেলিমপুত্র ইরফানের টর্চার সেল থেকে যা যা উদ্ধার করলো র‍্যাব

   
প্রকাশিত: ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, ২৭ অক্টোবর ২০২০

পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা আশিক টাওয়ার ভবনের ছাদের একটি রুম থেকে হাতকড়া, হাড় ও ছোরাসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এই কক্ষকে ইরফান সেলিম ‘নির্যাতন কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে তারা। গতকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) মদিনা আশিক টাওয়ারে এ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. ক. আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল ওই কক্ষটি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এরপর আমরা অভিযান চালিয়েছি।’ এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘টর্চার সেল থেকে হ্যান্ডকাফ, দড়ি, চাকুসহ আরও বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মানুষের হাড়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনও মন্তব্য করেননি কেউ। ফরেনসিক করার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

চকবাজারের আশিক টাওয়ার ভবনটি ১৬ তলা। পুরান ঢাকার সবচেয়ে বড় ভবন এটি। ভবনের ১৬ তলায় হাজি সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা ডেভেলপারের অফিস। এর ওপরেই ছাদ। আর ছাদের উপরেই এই টর্চার সেলের সন্ধান মিলেছে। র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘ইরফান ও জাহিদকে টিকাটুলিতে র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরফানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৬ তলা ওই ভবনের ছাদের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। সেখানে হকিস্টিক, হাতকড়া, ছোরা, মোটা দড়ি, গামছা, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার তারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এখানে বিভিন্নজনকে এনে নির্যাতন করতেন ইরফান।’

প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে রাজধানীর কলাবাগানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহম্মেদ খানের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি। এরপর ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে এসে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। নৌবাহিনী কর্মকর্তা নিজের পরিচয় দেয়ার পরও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া সঙ্গে থাকা তার স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহম্মেদ খান। সেই মামলায় এর আগে গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের এই মামলায় সাংসদের ছেলেসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা হলেন- হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, প্রোটকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমান। পরে সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেন এলাকায় হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইরফানকে আটক করে র‌্যাব-১০। পরে তাকে ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন র‍্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: