প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হাটহাজারীতে হামলা হলে ঢাকা অচল করে দেয়া হবে: নুর

   
প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

চট্টগ্রামের জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ৫ই মে’র মতো আরেকটি ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকে যদি হাটহাজারীতে কোনো হামলা হয়, তাহলে পুরো ঢাকা শহর অচল করে দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় প্রভাব মুক্ত রাখার জন্য এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী’ ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে নুর এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ফরিদুল হক, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আরমান হোসাইন, ইশা ছাত্র আন্দোলনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক এম সুহেব হোসেনসহ আরও অনেকে।

ডাকসু ভিপি বলেন,ছাত্ররা তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে। কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ বলতে পারবে না যে তাদের দাবিগুলো অযৌক্তিক। আমি তাদের দাবিগুলো পড়েছি। সেখানে মাদ্রাসার যে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা ‘মজলিসে শুরা’ রয়েছে তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আহ্বান জানাবে কেন? এটিই তো হওয়ার কথা ছিল।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা বিভক্ত করার জন্য দুরভিসন্ধিমূলকভাবে কিছু আলেম নৈতিকভাবে বিচ্যুতি হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। আজকে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় মুরব্বিরা দ্রুত একটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান রেখে নুরুল হক নুর বলেন,আমরা আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই- আপনারা মূর্খ গবেটদের মতো সন্ত্রাসীরা যে স্লোগান দেয় ‘একটা একটা শিবির ধর, বাম ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ এ টাইপের কোনো স্লোগান দিবেন না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করবেন। কোনো ভাঙচুর করবেন না। এর মাধ্যমে পুলিশ গোয়েন্দারা আপনাদের আন্দোলনে ভিন্ন কিছু ঘটিয়ে আন্দোলন দমন করতে চায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনে আপনাদের একপক্ষ ঘুমিয়ে থাকবেন আরেকপক্ষ সজাগ থাকবেন।

তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, আজকে (বৃহস্পতিবার) শিক্ষার্থীদের ওপর যদি কোনো আঘাত আসে তাহলে আগামীকাল (শুক্রবার) আপনারা (কওমি ছাত্ররা) পুরো ঢাকা শহর ব্লক করে দিবেন। আমরা মাদ্রাসার ছাত্র না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যদি ডাক দিতে পারি আপনারা নামতে পারবেন না? আন্দোলন করলে লাখ লাখ মানুষের দরকার হয় না। সিনা টান করে হাত উঁচু করে দশজন দাঁড়িয়ে যাবেন,দেখবেন পেছনে দশ হাজার লোক দাঁড়িয়ে যাবে।

এদিকে চট্টগ্রামের জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়। এরপর মাদ্রাসা বন্ধের সরকারি ঘোষণা প্রত্যাখান করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা শিক্ষার্থীরা মসজিদের মাইকে এ আদেশ প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছে।

তারা বলেন, আমাদের মাদ্রাসা সরকারি নয়। তাই এই মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার দিতে পারে না। আমরা এ আদেশ মানি না। মাদ্রাসার শুরার সদস্যরা বৈঠকে মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তা মেনে নিব। অন্যথায় আন্দোলনের দাবানল জ্বলে ওঠবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: