প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হাতের আঙ্গুল নেই তবুও জীবন যুদ্ধে থেমে নেই!

১৩ জুন ২০১৯, ২:০২:০০

ছবি: প্রতিনিধি

মোঃ জুয়েল রানা,
কুড়িগ্রাম থেকে:
মোঃ শহিদুল ইসলাম (২৭) অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় অর্থের অভাবে লেখাপড়ায় পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেই পাঠ চুকিয়েছেন। সে পরিবারের জৈষ্ঠ সন্তান। তার আরও ছোট দুই ভাই ও এক বোন আছে। কৃষক বাবার স্বল্প আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় অল্প বয়সেই কর্ম জীবনে পা রাখতে বাধ্য হন।

সে কর্মের তাগিদে ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত হন। সেখান থেকে আয়কৃত টাকা দিয়ে বাবার আয়ের সাথে যোগ হয়ে মোটামুটি সংসার চালিয়ে আসছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এমনি এক মুহুর্তে কর্মকালীন সময়ে গত ছয় মাস আগে ইট ভাটার মেশিনে ডান হাত পড়ে চারটি আঙ্গুল কেটে যায় তার। এতে করে শহিদুল কর্ম জীবন থেকে ছিটকে পড়ে। কর্তনকৃত হাতের চিকিৎসা বাবদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন সে। শহিদুল ইসলাম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের নলো গ্রামের মোঃ সৈয়দ আলীর পুত্র।

জানা যায়, ইট ভাটার শ্রমিক শহিদুল ডান হাতের চারটি আঙ্গুল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। কিভাবে আয় করবেন! কি খেয়ে বেঁচে থাকবেন! কিভাবে পরিবারকে সহযোগীতা করবেন এসব দুঃশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ার এক পর্যায়ে শহিদুল অধ্যাবসায়ী হয়ে উঠেন। আত্মপ্রত্যয় নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেছে নেন ফেরীওয়ালার পথ। একটি বাইসাইকেল ক্রয় করে তাতে একটি বাক্সের ভিতর কিছু চুড়ি, ফিতা, মালা, দুল, নাকের ফুল, মাথার ব্যান, স্নো, পাউডারসহ কসমেটিক সামগ্রী বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রয় করছেন।

শহিদুল জানান, আমি হাতের আঙ্গুল হারিয়ে হতাশ পড়ে ছিলাম। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হই ফেরীওয়ালার পথ বেছে নিতে। কুড়িগ্রাম শহর থেকে দুই দিন পর পর এসব পণ্য সামগ্রী কিনে নিয়ে এসে গ্রামগঞ্জে বিক্রি করি।

আমার বিক্রির পরিমাণ কোন কোন দিন ১ হাজার কিংবা ৮শ টাকা। আবার কোন কোন দিন ১৫শ টাকাও হয়। পুঁজি কম থাকায় অল্প পরিমানে মালামাল ক্রয় করে সেগুলি বিক্রি করি। তবে আমি কারও দ্বারস্থ হইনি। আমি এভাবেই প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছি। কিন্তু আমার হাতের আঙ্গুল না থাকায় আমি বিভিন্ন প্রকার কাজকর্মে অসুবিধার সম্মুখীন হই।

এ বিষয়ে বুড়াবুড়ী ইউপি সদস্য ছক্কু মিয়া বলেন, শহিদুল আগে ইট ভাটায় কাজ করতো। তার পারিবারিক অবস্থা খুবই করুন। পরিশ্রমী শহিদুল হাতের আঙ্গুল হারিয়ে কৃষি কাজ কিংবা অন্য কোন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন নি। বাধ্য হয়েই সে পণ্য সামগ্রী সাইকেলে নিয়ে হেঁটে হেঁটে সেগুলি বিক্রি করে।

এ ব্যাপারে বুড়াবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ একরামুল হকের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

বিডি২৪লাইভ/এজে

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: