প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

হাতে কামড় দিতেই সাথীকে কোপ দেন অনিক

   
প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রুদ্র মিজান: সাথী আক্তার রিনা। বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। রাস্তায় দেখা, পরিচয় হয় ভার্সিটি পড়ুয়া অনিকের সঙ্গে। তারপর অনিকের বাসা। উদ্দেশ্য একান্তে সময় কাটানো। কিন্তু তার আগ মুহূর্তেই ঘটে ঘটনাটি। রক্তে লাল হয় পুরো কক্ষ। রক্তাক্ত বঁটি। বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় সাথীর লাশ। বঁটি দিয়ে কোপ দেয়ার আগে অনিকের হাতে কামড় দিয়েছিলেন রিনা। বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেছিলেন এই নারী। এরমধ্যেই অনিকের বটির কোপে রক্তে ভেসে যায় পুরো কক্ষ। মেজেতে লুটিয়ে পড়েন সাথী। চাঞ্চল্যকর সাথী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর এভাবেই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খালেদুর রহমান অনিক (২২)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৯ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অনিক। তার আগের দিন ঘটে হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনিক জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি ক্যাম্পাস থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বের হয়ে ডেমরার আদর্শে গ্রামের বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রিকশা করে ফার্মগেইটে গিয়ে যখন উবারে কল দিচ্ছিলেন ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ান এক নারী।

তিনি অনিকের কাছে জানতে চান, কোথায় যাবেন? গন্তব্য বলার পর নারী জানান, তিনিও সেখানে যাবেন। একসঙ্গে যেতে চান। ভাড়া দু’জনে ভাগ করে দিবেন। পরে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দু’জন একসঙ্গে যান। যেতে যেতে পরিচয়, কে কোথায় থাকেন এসব বিষয়ে কথা হয়। নিজেকে সাথী নামে পরিচয় দেন ওই নারী। ডেমরার শামসুল হক কলেজের সামনে অটোরিকশা থেকে নেমে দুজনেই দু’শ করে চার’ শ টাকা ভাড়া দেন। ততক্ষণে সাথী জেনে যান অনিক এক কক্ষের একটি বাসায় একা থাকেন। হাঁটতে হাঁটতে সাথী প্রস্তাব দেন তার সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর। রাজি হন অনিক। বিনিময়ে ১৫শ’ টাকা দিতে হবে সাথীকে।

তারপর সাথীকে নিয়ে বাসায় ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন অনিক। ফ্রেশ হয়ে কাছে টানতে গেলেই বাধা দেন সাথী। এভাবে না। তিনি অগ্রিম টাকা চান। টাকা দিতে গিয়েই অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হন। চিল ছোবলের মতো মানিব্যাগটি নিয়ে যান সাথী। মানিব্যাগে থাকা ২হাজার ২শ’ টাকা রেখে দেন। এটা তার বকশিশ বলে দাবি করেন সাথী। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হয় দু’জনের। সাথী কিছুতেই টাকা ফেরত দিবেন না। এক পর্যায়ে অনিক জানান, সাথীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে আগ্রহী না তিনি। তাকে চলে যেতে বলেন। এবার ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন সাথী। দাবি করেন একটি মোবাইলফোন সেট ও ১০ হাজার টাকা। নতুবা চিৎকার করে সবাইকে জানিয়ে দেবেন।

অনিক নিজের ব্যবহৃত মোবাইলফোন সেট দিতে রাজি হন। জানিয়ে দেন, আর কিছু দেয়া সম্ভব না। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সাথী। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অনিক জানান, তখনই অনিকের গলায় চাকু ধরেন সাথী। টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ধাক্কা দিয়ে সাথীকে ফেলে দিয়ে রান্নাঘর থেকে বটি হাতে নেন অনিক। কোনো কিছু ভাবনার আগেই বটি দিয়ে কোপ দেন। বটির আঘাত লাগে সাথীর গলায়। সাথী চিৎকার করেন। অনিকের হাত ঝাপটে ধরে কামড় দেন। এরমধ্যে চাকু দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন সাথী। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের হাত ছাড়িয়ে বটি দিয়ে আবার কোপ দেন অনিক। রক্তে ভেসে যায় সাথীর পুরো শরীর। রক্তের দাগ লাগে অনিকের পোশাকেও। সাথী নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে যান। রক্তে ভিজে যায় বাসার মেজে। ধারণা করা হয় তখনই তার মৃত্যু ঘটে।

খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তার করা হয় খালেদুর রহমান অনিককে। এ বিষয়ে ডেমরা থানার পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে হত্যা করার পর সাথীর লাশটি টেনে বাথরুমে নিয়ে যান অনিক। ততক্ষণে সাথীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যায়। বাসায় গিয়ে রক্ত ও বাথরুমে সাথীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেন তারা। এ ঘটনায় শিগগিরই আদালতে চার্জশীট দেয়া হবে বলে জানান তিনি। নিহত সাথী কামরাঙ্গীচরের পশ্চিম রসুলপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে। নিহতের মেয়ে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন শপিং করার জন্য বাসা থেকে বের হন সাথী। আসামি খালেদুর রহমান অনিক কুমিল্লার চান্দিনা থানা সদরের আশেকুর রহমানের পুত্র। তিনি ডেমরার আদর্শগ্রামের ১০/৫ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। সূত্র: মানবজমিন

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: