হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে আনা ৫ শিশু আপন ভাই

                       
প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, ২৫ মার্চ, ২০২০

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে একই পরিবারে হাম আক্রান্ত ৫ ভাইকে হেলিকপ্টারে করে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে এখনো সাজেক ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে ১২৩ শিশু হামে আক্রান্ত রয়েছে। তাদের চিকিৎসা সেবায় কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগের তিনটি মেডিকেল টিম। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবির মেডিকেল টিমও সেখানে রয়েছে বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেয়া শিশুরা হলো- প্রহিত ত্রিপুরা (৭), রখেন ত্রিপুরা (৮), রকেট ত্রিপুরা (৯), নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) ও দিপায়ন ত্রিপুরা (১১)। এরা সবাই শিয়ালদহ মৌজার লংথিয়ান পাড়ার বাসিন্দা অনীল মোহন ত্রিপুরার সন্তান। তারা সবাই সর্ম্পকে আপন ভাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত সাজেকের অরুণপাড়ায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া ইউনিয়নের লংথিয়ান পাড়ায় গত রোববার ও মঙ্গলবার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সাজেকের দুই গ্রাম অরুণপাড়া ও লংথিয়ান পাড়ায় ৭ শিশুর মৃত্যু হলো।

এখনো এই ইউনিয়নের অরুণপাড়া, লংথিয়ান পাড়া, কমলাপুর পাড়া, তারুং পাড়া ও হাইচপাড়ায় আরও ১২৩টি শিশু হামে আক্রান্ত রয়েছে। তবে মেডিকেল টিম সেখানে চিকিৎসা সেবা শুরু করার পর নতুন করে কেউ হাম রোগে আক্রান্ত হয়নি বলে দাবি করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পৃথিবীর জুড়ে নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারী সময়ে সাজেকে হাম রোগে পরপর সাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এই ইউনিয়নের আশপাশের গ্রামের মানুষেরা ছোট সন্তানদের নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

১৬৯ নং শিয়ালদহ মৌজার হেডম্যান যুপিইথাং ত্রিপুরা জানিয়েছেন, সাজেকের পাঁচ গ্রামে এখনো শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত। বুধবার বিকেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একই পরিবারের পাঁচ ভাইকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গুরুতর আক্রান্ত পাঁচ ভাই এখন সুস্থ আছে। এছাড়া সাজেকের ৫ গ্রামের আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর ও বিজিবির তত্ত্বাবধানে আরও একটি চিকিৎসক দল লংথিয়ান পাড়ায় পাঠানো হয়। ওই মেডিকেল টিমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাবার এবং ওষুধ সামগ্রীও আনা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আহমদ জানিয়েছেন, সাজেকে হামে আক্রান্ত একই পরিবারের পাঁচ শিশুর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বুধবার বিকেলে তাদেরকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (চমেক) নেয়া হয়েছে। এর আগে তাদের পাঁচজনকে দীঘিনালা নিয়ে আসা হয়। পরে দীঘিনালা থেকে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (চমেক) নেয়া হয়। বর্তমানে তারা পাঁচজনই অসুস্থ আছে। এখনো সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১২৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় তিনটি মেডিকেল সেখানে কাজ করছে। এছাড়া সেনাবাহিনী ও বিজিবির মেডিকেল টিমও কাজ করছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


পাঠকের মন্তব্য:

© স্বত্ব বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭

ফোন: ০৯৬১১৬৭৭১৯০, ০৯৬১১৬৭৭১৯১
ইমেইল: info@bd24live.com