প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

শাহাদাত হোসেন রাকিব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

১৪টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে প্রতিমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন দুদক কমিশনার

   
প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কতৃপক্ষের ১৪টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি এসব দুর্নীতি রোধে ২৮টি সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর হাতে এ সুপারিশমালা তুলে দেন দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য জোরালো ভূমিকা নিয়ে থাকে দুদক। এটি প্রতিরোধমূলক কাজের অংশ। কোন-কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতির উৎস আছে তা তুলে ধরা হয়েছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে এসব অভিযোগ শুনলে আমার মনে হয় এ ধরণের সমস্যা থাকবে না। দুর্নীতির ১৪টি উৎসও তুলে ধরেন দুদক কমিশনার।

১. অধিকাংশ স্থলবন্দরের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল। অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বন্দর ও কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় প্রায়শই বিনা শুল্কে আমদানিকৃত মালামাল বের করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

২. স্থলবন্দরগুলোর কেনাকাটায় সর্বদা সরকারি ক্রয় আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় স্থানীয় ব্যক্তিরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকেন। ক্ষেত্র বিশেষে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ করে থাকেন, যার ফলে দুর্নীতি ও আত্মসাতের নানা অপরাধ সংঘটিত হয়।

৩. আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ ও বেতনাদি প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি ও স্বচ্ছতা না থাকায় কর্মী উপস্থিত বা অনুপস্থিত সকল শ্রমিকের নামে বিল উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে।

৪. দীর্ঘদিন ধরে একই স্টেশনে কর্মরত থাকায় বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে বন্দর কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের এক ধরনের সখ্যতা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া যায়। এরফলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে বন্দর কেন্দ্রিক দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে।

৫. মালামাল হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় কাজ পাওয়ার অযোগ্য ঠিকাদাররা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ সম্পাদনের চেষ্টা করে থাকে।

৬. কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্রুত পণ্য ছাড়করণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু পণ্য ছাড়করণের ক্ষেত্রে দেশের ট্রেড পলিসিতে বর্ণিত উচ্চ ট্যারিফ-নিম্ন ট্যারিফ, কোটা সিস্টেম, বিভিন্ন প্রণোদনা, ফ্রি-ইমপোর্ট, আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকাসহ পণ্য আমদানি-রফতানির অন্যান্য ডকুমেন্টস সঠিকভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে যথাযথ যাচাই না করে পণ্য ছাড়করণের মাধ্যমে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করা হয়।

৭. বন্দরের কাস্টমস বিভাগকে বলা হয় গেটকিপার অফ দ্য ন্যাশন। কাস্টমস বিভাগকেই দেশের বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়ন, রফতানি উন্নয়ন, নিষিদ্ধ এবং ক্ষতিকর পণ্যের ছাড় করতে না দেয়াসহ পণ্য ছাড়করণে মূখ্য দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিএন্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে পারস্পারিক সমন্বয়ের অভাবেও কোনো কোনো সময় দুর্নীতির উদ্ভব ঘটে।

৮. আমদানিকারক ও কাস্টমস বিভাগসূত্রে প্রায়শই বন্দরের শেড বা গুদাম থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বন্দরের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগসাজশে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এসকল চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকে মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে।

৯. স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রাধীন বিভিন্ন বড় কাজকে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত কোটেশনের মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরের পরিবর্তে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদানের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

১০. স্থলবন্দরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বদলী ও পদায়ন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় আঞ্চলিকতা, এলাকাপ্রীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করে পছন্দ অনুযায়ী ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

১১. এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন বা সিবিএ’র পদাধিকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কমিশন বাণিজ্য পরিচালনা ও চোরাই সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে অযোগ্য ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

১২. স্থলবন্দরগুলোর বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি, হয়রানি, পেশাদারিত্বের অভাব এবং বন্দরের ভেতরে নানা অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

১৩. বিভিন্ন স্থলবন্দরের অফিস ভবন, সেড ইয়ার্ড ও ওয়েব্রিজ স্কেলে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয়ভাবে টেন্ডুল নামীয় ভাড়া করা বহিরাগতদের দিয়ে দাফতরিক কাজ করিয়ে থাকেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এসকল টেন্ডুলদের মাধ্যমে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন।

১৪. একই ব্যক্তিকে বারবার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ডের খণ্ডকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির নানাবিধ অনিয়ম সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: